ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল ক্লিকে ভাতা পেলেন ১৪ হাজার ৩৭০ নারী, পবায় ৬৬৯ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৩৪ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রম’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের মুহূর্তে একটি ডিজিটাল ক্লিকের মাধ্যমে দেশের ২০টি ইউনিটে একযোগে ১৪ হাজার ৩৭০ জন নারী সুবিধাভোগীর মোবাইলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভাতার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগে মুহূর্তেই ভাতা পৌঁছে যাওয়ায় উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তিনটি গ্রাম—বেড়পাড়া, দবিরমোল্লা পাড়া ও দরগা পাড়ায় ৬৬৯টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী প্রান্তে বায়া শিশু পরিবার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে ভাতা পৌঁছে যাওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমছে।
উপকারভোগীদের মধ্যে পবা উপজেলার বাসিন্দা বিলকিস বানু ফ্যামিলি কার্ড হাতে পেয়ে বলেন, “এই কার্ড আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। এখন আমরা নিয়মিত সহায়তা পাবো—এতে আমাদের সংসার চালাতে কিছুটা স্বস্তি আসবে।” একই এলাকার ফিরোজা বেগম বলেন, “আগে অনেক কষ্ট ছিল, এখন এই সহায়তায় আমাদের জীবনে কিছুটা স্থিতি ফিরবে বলে আশা করছি।”
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, এই পাইলটিং কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে দেশের আরও বেশি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার সরকারি সহায়তার আওতায় আসবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবগঞ্জের বিলভাতিয়া সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানে নেশাজাতীয় সিরাপ আটক করেছে বিজিবি।

ডিজিটাল ক্লিকে ভাতা পেলেন ১৪ হাজার ৩৭০ নারী, পবায় ৬৬৯ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড

Update Time : ০১:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রম’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের মুহূর্তে একটি ডিজিটাল ক্লিকের মাধ্যমে দেশের ২০টি ইউনিটে একযোগে ১৪ হাজার ৩৭০ জন নারী সুবিধাভোগীর মোবাইলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভাতার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগে মুহূর্তেই ভাতা পৌঁছে যাওয়ায় উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তিনটি গ্রাম—বেড়পাড়া, দবিরমোল্লা পাড়া ও দরগা পাড়ায় ৬৬৯টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী প্রান্তে বায়া শিশু পরিবার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে ভাতা পৌঁছে যাওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমছে।
উপকারভোগীদের মধ্যে পবা উপজেলার বাসিন্দা বিলকিস বানু ফ্যামিলি কার্ড হাতে পেয়ে বলেন, “এই কার্ড আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। এখন আমরা নিয়মিত সহায়তা পাবো—এতে আমাদের সংসার চালাতে কিছুটা স্বস্তি আসবে।” একই এলাকার ফিরোজা বেগম বলেন, “আগে অনেক কষ্ট ছিল, এখন এই সহায়তায় আমাদের জীবনে কিছুটা স্থিতি ফিরবে বলে আশা করছি।”
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, এই পাইলটিং কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে দেশের আরও বেশি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার সরকারি সহায়তার আওতায় আসবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।