ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই: মূল কারিগর ব্যাংকেরই তিন কর্মী, গ্রেফতার ৬

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ Time View
Print

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অনলাইন জুয়ায় হেরে যাওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা ও ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত আত্মসাটের দায় এড়াতে নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাই ছিনতাইয়ের এই নাটক সাজিয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত এজেন্ট ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরবাইক এবং একটি আইফোনসহ ৭টি মোবাইল ফোন।

​গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ব্যাংকের অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২), ঋণ কর্মকর্তা সুজন (২৭), ঋণ কর্মকর্তা আবু তালেব (২২), মোটরসাইকেল মালিক রাব্বি আলী এবং মূল ছিনতাইকারী স্বপন (২৮) ও হাসান আলী (২৫)।

​পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু আদমদীঘি রেলগেট এলাকা থেকে শাখা মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে আবাদপুকুর বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রানীনগর থানার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল তাদের গতিরোধ করে। এ সময় লোহার স্টিক দিয়ে মারধর করে টাকার ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

​ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশের একাধিক চৌকস দল অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিন রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ অক্টোবর রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল ছিনতাইকারী স্বপন ও হাসানকে গ্রেফতার এবং তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

​তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এজেন্ট ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব এবং কর্মচারী রাসেল বাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ব্যাংকের কর্মচারী রাসেল, সুজন ও আবু তালেব দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ায় প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা হেরে যাওয়ার পর তা সামাল দিতে তারা গ্রাহকদের জমানো টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আবারও জুয়ায় খাটিয়ে পুরোটাই খোয়ান। সেই দেনা মেটাতে এবং চুরি গোপন করতে তারা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। দীর্ঘ এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে স্বপন ও হাসানসহ কয়েকজনকে ভাড়া করেন তারা।

​পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলের সঙ্গে টাকা আনতে যান এবং পথিমধ্যে ছিনতাইকারীদের কাছে নিজেদের অবস্থান জানাতে থাকেন। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে ভাড়াটে ছিনতাইকারীরা ক্যাশিয়ার নাজমুলকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। নাজমুল এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং তিনি হামলার প্রকৃত শিকার হন, অন্যদিকে রাসেল বাবু ভুক্তভোগী সাজেন।

​চুক্তি অনুযায়ী, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১০ লাখ টাকা এবং বাকি টাকা ছিনতাইকারীদের নেওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে স্বপন ও হাসানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়।

​নওগাঁর পুলিশ সুপার জানান, ছিনতাই হওয়া বাকি টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মোস্তাসিন মামুন ৷ নওগাঁ ৯-১০-২০২৬

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে জুলহাস উদ্দিন

নওগাঁয় ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই: মূল কারিগর ব্যাংকেরই তিন কর্মী, গ্রেফতার ৬

Update Time : ০৯:০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Print

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অনলাইন জুয়ায় হেরে যাওয়া বিপুল অঙ্কের টাকা ও ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত আত্মসাটের দায় এড়াতে নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাই ছিনতাইয়ের এই নাটক সাজিয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত এজেন্ট ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরবাইক এবং একটি আইফোনসহ ৭টি মোবাইল ফোন।

​গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ব্যাংকের অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২), ঋণ কর্মকর্তা সুজন (২৭), ঋণ কর্মকর্তা আবু তালেব (২২), মোটরসাইকেল মালিক রাব্বি আলী এবং মূল ছিনতাইকারী স্বপন (২৮) ও হাসান আলী (২৫)।

​পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু আদমদীঘি রেলগেট এলাকা থেকে শাখা মালিক ফিরোজ হোসেনের ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে আবাদপুকুর বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রানীনগর থানার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল তাদের গতিরোধ করে। এ সময় লোহার স্টিক দিয়ে মারধর করে টাকার ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

​ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশের একাধিক চৌকস দল অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিন রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ অক্টোবর রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল ছিনতাইকারী স্বপন ও হাসানকে গ্রেফতার এবং তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

​তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রানীনগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এজেন্ট ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব এবং কর্মচারী রাসেল বাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ব্যাংকের কর্মচারী রাসেল, সুজন ও আবু তালেব দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ায় প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা হেরে যাওয়ার পর তা সামাল দিতে তারা গ্রাহকদের জমানো টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আবারও জুয়ায় খাটিয়ে পুরোটাই খোয়ান। সেই দেনা মেটাতে এবং চুরি গোপন করতে তারা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। দীর্ঘ এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে স্বপন ও হাসানসহ কয়েকজনকে ভাড়া করেন তারা।

​পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলের সঙ্গে টাকা আনতে যান এবং পথিমধ্যে ছিনতাইকারীদের কাছে নিজেদের অবস্থান জানাতে থাকেন। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে ভাড়াটে ছিনতাইকারীরা ক্যাশিয়ার নাজমুলকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। নাজমুল এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং তিনি হামলার প্রকৃত শিকার হন, অন্যদিকে রাসেল বাবু ভুক্তভোগী সাজেন।

​চুক্তি অনুযায়ী, ছিনতাই হওয়া ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১০ লাখ টাকা এবং বাকি টাকা ছিনতাইকারীদের নেওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে স্বপন ও হাসানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলা হয়।

​নওগাঁর পুলিশ সুপার জানান, ছিনতাই হওয়া বাকি টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মোস্তাসিন মামুন ৷ নওগাঁ ৯-১০-২০২৬