
এন এস ফারুক (স্টাফ রিপোর্টার) রংপুর। রংপুরের মিঠাপুকুরে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় একের পর এক অভিযান, জরিমানা ও উৎপাদনসামগ্রী ধ্বংস করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই আবারও শুরু হয় সেই কার্যক্রম। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আর জরিমানাই কি যথেষ্ট, নাকি অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রয়োজন কঠোর ও কার্যকর আইন প্রয়োগ? ভেজাল গুড় উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগ যেন থামছেই না। ভেজাল গুড় উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও একই কার্যক্রম প্রতিনিয়ত চলছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, নজরদারি আসলে কতটা কার্যকর? উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরেরহাট, পশ্চিম গেনারপাড়া ও ফুলচৌকি খামারপাড়ায় ক্ষতিকর রঙ, ডাইস, সিঁদুর, পচা মিষ্টি, মিষ্টির শিরা, মেয়াদোত্তীর্ণ চিনি ও বিভিন্ন কেমিক্যালের সংমিশ্রণ ব্যবহার করে রাতভর উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আরও বৃহৎ পরিসরে চলছে এই কর্মযজ্ঞ। এতে নেই প্রশাসনের সঠিক নজরদারি। জানা যায়, ফুলচৌকি খামারপাড়া এলাকার মুকুল, হানিফ মিয়া এবং পশ্চিম গেনারপাড়ার মোরছালিম ইসলাম ছোটন, নালু মিয়া ও মোকলেছার দীর্ঘদিন ধরে এই ভেজাল গুড় উৎপাদন করে আসছেন। সম্প্রতি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামানের নেতৃত্বে গত মাসে লাগাতার চারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি; ভেজাল গুড়ের উৎপাদন কার্যক্রম বহাল রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান যখন হয়, তখন কিছু সময়ের জন্য তৎপরতা দেখা গেলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে অসাধু উৎপাদনকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়ে বরং তারা নতুন কৌশলে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি খাদ্যপণ্য নিয়ে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পরেও উৎপাদন কার্যক্রম কীভাবে চলে, এমন প্রশ্ন উঠেছে। তাই শুধু লোকদেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, উৎপাদনস্থল পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনকে মাঝেমধ্যে অভিযান দেখিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে ভেজাল গুড় উৎপাদনের মূল উৎস চিহ্নিত করতে হবে। কারা উৎপাদন করছে, কোথায় করছে এবং কীভাবে বাজারজাত করছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে রংপুর জেলার জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ইউএনও-কে বিষয়টি জানাচ্ছি, অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
Reporter Name 
















