
সৈয়দ উসামা বিন শিহাব | স্টাফ রিপোর্টার
প্রাইমারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর ১০ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা বিক্ষোভ ও স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার আগের রাত থেকেই একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর বিক্রির চেষ্টা চালায়। মিরপুর ১০ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরীক্ষার দিন সকালে কয়েকজন দালাল প্রকাশ্যে প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহের প্রস্তাব দিলে বিষয়টি জনসমক্ষে চলে আসে এবং মুহূর্তেই ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং এর পেছনে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করে প্রস্তুতি নেওয়ার পর এমন অনিয়ম তাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা আগেই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিভাবকরা বলেন, প্রাইমারি শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে প্রশ্নপত্র ফাঁস দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে এবং টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিরা চাকরি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১) প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত দালালচক্রের মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার
২) দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা
৩) পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত
৪) প্রশ্নবিদ্ধ পরীক্ষাটি বাতিল
৫) স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিকভাবে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দাবির বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেশের নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গভীর সংকটে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
Leave a Reply