শিরোনাম :
ধামইরহাট বড়থা ডি আই ফাজিল মাদ্রাসার বেহাল অবস্থা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২ ধামইরহাটে অপহরণ মামলার আসামি ইয়াদুল পুলিশের হাতে আটক ধামইরহাটে অর্ধ বার্ষিকী সাফল্য উদযাপন ও যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে যুব সংগঠন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত নওগাঁর পত্নীতলায় তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-৫ বগুড়ায় রেলের দূরত্ব ভিত্তিক রেয়াত বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন চাঁদপুর জেলায় ফরিদগঞ্জ উপজেলায় খাজে আহমেদ মজুমদার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত ধামইরহাটে গ্রামের তরুণদের উদ্যোগে মসজিদের ধান কাটা চলছে নওগাঁয় মাদকসহ র‌্যাবের হাতে আটক ১

বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতালে আবারো ডাক্তারের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ।

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ জালাল উদ্দিন।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৫৬ বার পঠিত

মৌলভীবাজার বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। (২৭ ডিসেম্বর) রবিবার সকালে,সদর উপজেলার ছিড়াইনগর গ্রামের শাহাবন্দর খাঁন বাড়ির বাসিন্দা সায়েদ মিয়ার স্ত্রী গর্ভবতী লাকী খানমকে ভর্তি করা হয় বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে। অনুমান সকাল ০৭:ঘটিকায় গর্ভবতী লাকি খানমকে প্রসব বেদনায় যখন যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তখন তাহার স্বামী সায়েদ মিয়াকে ডেকে আনা হয়, বলা হয় আপনার স্ত্রীর নরমাল ডেলিভারি করবো নাকি সিজার।

সায়েদ মিয়া জানান, নরমাল সিজার বুঝিনা আমার সন্তান ও স্ত্রী যেন কোন ক্ষতি না হয় সেই ব্যবস্হা অনুযায়ী আপনারা করেন। তখন কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আপনার স্ত্রী সকল রিপোর্ট ভালো আছে এবং বাচ্চার প্রছিশন ভালো আছে। কর্তব্যরত ডাক্তারের উপস্থিতিতে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও আয়া নরমাল ডেলিভারি করার জন্য রুমে প্রবেশ করিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা চেষ্টা করার পর ব্যর্থ হয়ে রোগীর স্বামীকে ডাকান।

তখন সায়েদ ঐ রুমে প্রবেশ করে দেখেন বাচ্চার মাথা ও কানে টেনে কিছুটি বাহির করে আর পারছেননা, তখন তিনি ডাক্তারকে বলেন আমার বাচ্চার যে অবস্থা আপনারা মেরেই ফেলবেন। তখন ডাক্তার বললেন আপনার স্ত্রীর সিজার করানো লাগবে আপনে কোন চিন্তা করবেননা এদিকে আসেন এই কাগজে আরেটি সাক্ষর দিয়ে মিষ্টি নিয়ে আসেন। আর শিশু ডাক্তার আনতে হবে টাকা দিন। তারপর সিজার রুমে প্রবেশ করানো হয়।

সিজারের সময় বাচ্চার কাঁন্না শুনা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর আয়া বাচ্চার একহাত ধরে ঝুলিয়ে রুমে নিয়ে আসে। রুমে নিয়ে শিশু ডাক্তার বাচ্চার মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে দেন তখন সায়েদ মিয়া ডাক্তারকে প্রশ্ন করলেন আমার বাচ্চা কি জীবিত, তখন ডাক্তার বললেন হার্টবিট অনেকটি কাজ করতেছে। তখন সায়েদ মিয়া বাচ্চার মুখ থেকে অক্সিজেন খেলে দেখেন বাচ্চা মৃত্যু। তখন ডাক্তারকে বলেন আমার বাচ্চাকে মেরে এনে আপনারা মৃত্যু বাচ্চার মুখে কেন অক্সিজেন লাগিয়ে রাখছেন।

তখন ডাক্তার কিছু না বলে রুম থেকে বাহির হয়ে যান। তিনি জানান, হাসপাতালের মালিক আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন ছিল্লাছিল্লি করে মানুষকে শুনাইয়া লাভ নাই আস আমার চেম্বারে কতো টাকা লাগবে আপোশ করে পেলি। তখন সায়েদ মিয়া টাকা দিয়ে আপোষ করবেননা জানালে, মালিক বলেন মৌলভীবাজারের এসপি, ডিসি, সিভিল সার্জন সব আমার তুমি কিছু করতে পারবেনা। এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সায়েদ মিয়া। এ বিষয়ে বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতালে গেলে পরিবেশ অনেকটা উত্তেজনা পাওয়া যায়।

গঠনাস্হলে পুলিশ মোতায়েন ছিলো। সায়েদ মিয়া যখন কাঁন্না করে উত্তেজিত হয়ে কথা বলছিলেন তখন হাসপাতালের মালিক বদরুন্নেসা এসে বারাবার শান্তনা দিয়ে বলেন আপনার সন্তানকে এনে দিতেছি শান্ত হন। বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক বদরুন্নেসার ছেলের বউ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ডাঃ যাকিয়া শহীদ জানান, আমরা সম্পূর্ণ প্রসেসিং হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী করেছি। রোগীপক্ষের কথামতো আমরা প্রথমে নরমাল চেষ্টা করছি ডেলিভারির জন্য পরে সিজার করছি। দেখুন নরমালে সিজারের জন্য প্রথমে আমরা বনসই নিয়েছি, সিজারের সময় আমরা বনসই নিয়েছি।

এখানে উল্লেখ আছে পরে দেখুন বাচ্চা যদি মারা যায় তাহলে কর্তপক্ষ দায়ী নয়। মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ তাওহীদ আহমদ মোটাফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি জানেন কিন্তু লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যদি লিখিত কোন অভিযোগ দেওয়া হয় তাহলে বোর্ড গঠনকরে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্হা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য- গত (৩০ সেপ্টেম্বর) বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তারের গাফিলতির কারণে সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন রোগীর স্বজনেরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, রোগীর অবস্থা জটিল ছিল। তাই চেষ্টা করেও বাঁচানো যায় নি । রোগীর স্বজনেরা বলেন, লিলি বেগম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বলিয়ারবাগ গ্রামের মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী আহাদ মিয়া স্ত্রী। সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী চিকিৎসা নিতে আসেন বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতালে, কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবার নামে লিলি বেগমের পরিবারকে আতংকিত করে তুলেন এবং বলেন গর্ভবতীকে সিজার না করালে তাকে বাঁচানো যাবেনা তখন লিলির পরিবারকে বাধ্য করা হয় সিজার করানোর জন্য একপর্যায়ে লিলিকে সিজার করার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) তে ।

এর কিছুক্ষণ পর জানানো হয় লিলি মারা গেছেন এরপর থেকে ডাক্তার নার্স এমনকি আয়া পর্যন্ত পালিয়ে যান। এরপর রোগীর অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী করা তীর সরাসরি গিয়ে পড়ে বদরুন্নেসার ডাক্তার ও সংশ্লিষ্টদের ওপর।স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে দায়িত্বরত ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ অন্যন্যেদের দেখতে না পেয়ে হাসপাতালটিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের প্রভাবশালীদের সাথে সু-সম্পর্ক থাকায় কিছুই হয়নি। কিছুদিন পরপর এমন ঘটনাগঠছে হাসপাতালে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com