ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শতবর্ষী খাল ভরাট করে দখলের অভিযোগ, কৃষি ও জনজীবনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪০ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার নয়নপুর ও চন্ডাখীল এলাকায় শত বছরের পুরনো একটি সরকারি খাল ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। খাল ভরাটের সঙ্গে মেসার্স লোকমান বিল্ডার্স স্টোন ক্রাশার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বপুরুষের আমল থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসা খালটি কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই ভরাট করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের কাজে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি ভরাট করার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের পুনিয়াউট, সরকারপাড়া, পৈরতলা, ছয়বাড়িয়া ও নয়নপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ ছিল এই খালটি।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, খালটি ছিল এলাকার কৃষির প্রধান পানির উৎস। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি কৃষক পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে এবং তাদের জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হবে।
এ বিষয়ে একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই খালটি আমাদের কৃষির প্রাণ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক খাল ভরাট করা হয়েছে। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখানো হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “আমি বাধা দেওয়ায় আমাকে দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং খালটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ও কৃষি ব্যবস্থা পুনরায় সচল রাখা যায়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন খাঁটি নায়ক: নওগাঁ জেলার ‘সেরা ওসি’ ধামইরহাটের মিন্টু রহমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শতবর্ষী খাল ভরাট করে দখলের অভিযোগ, কৃষি ও জনজীবনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

Update Time : ০১:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার নয়নপুর ও চন্ডাখীল এলাকায় শত বছরের পুরনো একটি সরকারি খাল ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। খাল ভরাটের সঙ্গে মেসার্স লোকমান বিল্ডার্স স্টোন ক্রাশার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বপুরুষের আমল থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসা খালটি কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই ভরাট করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের কাজে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি ভরাট করার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের পুনিয়াউট, সরকারপাড়া, পৈরতলা, ছয়বাড়িয়া ও নয়নপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ ছিল এই খালটি।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, খালটি ছিল এলাকার কৃষির প্রধান পানির উৎস। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি কৃষক পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে এবং তাদের জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হবে।
এ বিষয়ে একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই খালটি আমাদের কৃষির প্রাণ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক খাল ভরাট করা হয়েছে। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখানো হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “আমি বাধা দেওয়ায় আমাকে দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং খালটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ও কৃষি ব্যবস্থা পুনরায় সচল রাখা যায়।