
মোঃ নেছার উদ্দিন,স্টাফ রিপোর্টার।।ভোটের দরজায় দাঁড়িয়ে ধর্ষণ—সুবর্ণচরে জামায়াতের মুখোশ খুলে দিল ‘ড্রাইভার ফারুক’ কাণ্ড
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাক্প্রতিবন্ধী এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মো. ফারুক ওরফে ড্রাইভার ফারুক শুধু একজন অপরাধী নন—তিনি জামায়াতে ইসলামের রাজনৈতিক নৈতিকতার নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফারুক নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোট চাইতে এসেছিলেন। অর্থাৎ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যক্তি কেবল একজন ‘পাশের বাড়ির লোক’ নন—তিনি একটি রাজনৈতিক প্রতীকের বাহক হয়ে ঘরে ঢুকেছিলেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—ভুক্তভোগী একজন বাক্প্রতিবন্ধী। তাকে ফুসলিয়ে ‘বিরিয়ানি খাওয়ানোর’ প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস গোপনে চলা এই পাশবিকতার পর গর্ভধারণের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পায়। প্রশ্ন হলো—এই ছয় মাস জামায়াতের নৈতিক পাহারাদাররা কোথায় ছিলেন?
“ও আমাদের না”—চেনা দায় এড়ানোর রাজনীতি
ঘটনা প্রকাশের পরপরই জামায়াতের স্থানীয় ইউনিট সভাপতি তড়িঘড়ি করে দায় ঝেড়ে ফেলেছেন। বলেছেন,
“তিনি আমাদের সাথে সম্পর্কিত নন… জামায়াতের সমর্থক পরিচয় দিলেও আমাদের সাথে সম্পর্ক নেই।”
এই বক্তব্য নতুন নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে যখনই কোনো ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত কেউ ইসলামি লেবাস বা জামায়াত-ঘনিষ্ঠ পরিচয় বহন করেছে, তখনই দলটির মুখপাত্ররা একই স্ক্রিপ্ট পড়েছেন—
‘ও আমাদের না’, ‘ও প্রকৃত জামায়াতি না’, ‘অপরাধীর কোনো দল নেই’।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—
ভোট চাইতে এলে কি তখনও সে ‘আপনাদের না’?
দাঁড়িপাল্লা নিয়ে দরজায় কড়া নাড়লে কি তখনও সে ‘বহিরাগত’?
নৈতিকতার রাজনীতি নাকি ধর্ষকের আশ্রয়স্থল?
জামায়াত ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ‘নৈতিকতা’, ‘দ্বীনদারি’ আর ‘ইসলাহি সমাজ’-এর দাবিদার হিসেবে হাজির করে আসছে। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—এই নৈতিকতার ছায়াতলেই বারবার জন্ম নিচ্ছে ভয়ংকর অপরাধ।
আজ সুবর্ণচরে এক প্রতিবন্ধী কন্যা গর্ভবতী, তার শৈশব ও মানবিক মর্যাদা চূর্ণ। আর জামায়াত ব্যস্ত—কে কোন দলে, কে কার সমর্থক, কে কোন মঞ্চে দাঁড়িয়েছিল—এই হিসাব মেলাতে।
রাষ্ট্র কি শুধু গ্রেপ্তারেই দায় শেষ করবে?
পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে, আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে—এটি ন্যূনতম আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু সমাজের দায় এখানেই শেষ নয়।
এই ধর্ষণ কেবল একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়,
এটি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যর্থতা,
যেখানে ভোটের নামে ঘরে ঢুকে দুর্বলকে শিকার করার সাহস পায় অপরাধীরা।
সুবর্ণচরের এই ঘটনা জামায়াতের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে গেল—
আপনাদের রাজনীতিতে দুর্বল মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
নাকি ভোটের দরজায় নৈতিকতার সব দরজা বন্ধ?
Leave a Reply