ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: বাস্তবে কতটা কার্যকর?

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ১৭ Time View
Print

স্টাফ রিপোর্টার:

আসসালামু আলাইকুম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

আপনাকে যথাযোগ্য সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপনার ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতি অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ প্রত্যাশা করে আসছে। আপনার কঠোর অবস্থান সেই প্রত্যাশাকে নতুনভাবে জাগ্রত করেছে।

তবে বাস্তবতা আজ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মাঠপর্যায়ে এখনও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেমে নেই। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু প্রভাবশালী মহল ও কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির ছত্রছায়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে সরকারের কঠোর ঘোষণাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

বাংলা প্রবাদ আছে— “সরিষার মধ্যেই ভূত।” বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই কথাটিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। কারণ অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তি যদি অপরাধীদের সঙ্গে গোপনে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে কোনো অভিযানই স্থায়ী সফলতা পাবে না।

দেশের জনগণ শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে সফল করতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে।

জনগণের প্রত্যাশা— রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান যেন কেবল বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়। তাহলেই গড়ে উঠবে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরের তারাগঞ্জে গোসল করতে নেমে ঢাকা থেকে আসা দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্য

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: বাস্তবে কতটা কার্যকর?

Update Time : ০৫:১৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
Print

স্টাফ রিপোর্টার:

আসসালামু আলাইকুম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

আপনাকে যথাযোগ্য সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপনার ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতি অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ প্রত্যাশা করে আসছে। আপনার কঠোর অবস্থান সেই প্রত্যাশাকে নতুনভাবে জাগ্রত করেছে।

তবে বাস্তবতা আজ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মাঠপর্যায়ে এখনও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেমে নেই। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু প্রভাবশালী মহল ও কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির ছত্রছায়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে সরকারের কঠোর ঘোষণাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

বাংলা প্রবাদ আছে— “সরিষার মধ্যেই ভূত।” বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই কথাটিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। কারণ অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তি যদি অপরাধীদের সঙ্গে গোপনে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে কোনো অভিযানই স্থায়ী সফলতা পাবে না।

দেশের জনগণ শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে সফল করতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে।

জনগণের প্রত্যাশা— রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান যেন কেবল বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়। তাহলেই গড়ে উঠবে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ।