ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ২৮ Time View
Print

মোঃ সুমন সরকার, স্টাফ রিপোর্টার:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় চত্বরে রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী ও ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এতে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন হতাশ, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুর ওপর এমন নৃশংস ঘটনার পরও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া উদ্বেগজনক।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল, স্বেচ্ছাসেবী মো. শরিফুল ইসলাম, জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের, ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সহ-সভাপতি রিনা বেগম, পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন হাসিনুরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল বক্তব্যে বলেন, “আমার মেয়েটা এখনো শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য আমাদের বারবার হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসা করাতে করাতে আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। ঘটনার পর থেকে বিভিন্নভাবে আপস-মীমাংসার চাপ দেওয়া হয়েছে। টাকা-পয়সার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একজন বাবা হিসেবে আমি কোনো আপস চাই না। আমি শুধু আমার মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ের কোনো দোষ ছিল না। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

বক্তারা বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের কোনো আপস হতে পারে না। কোনো প্রভাবশালী মহল বা অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে তা সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী পরিবার বিচার চাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধন শেষে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ভয়ভীতি দেখানো বা আপোষে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।”

উল্লেখ্য, উপজেলার পূর্ব লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে গত ২৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে শান্ত (২৫)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে। তবে ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে অস্ত্রের চালান জব্দ, নারীসহ আটক ২

রায়গঞ্জে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

Update Time : ০৯:৫২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
Print

মোঃ সুমন সরকার, স্টাফ রিপোর্টার:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় চত্বরে রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী ও ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এতে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন হতাশ, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুর ওপর এমন নৃশংস ঘটনার পরও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া উদ্বেগজনক।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল, স্বেচ্ছাসেবী মো. শরিফুল ইসলাম, জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের, ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সহ-সভাপতি রিনা বেগম, পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন হাসিনুরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল বক্তব্যে বলেন, “আমার মেয়েটা এখনো শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য আমাদের বারবার হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসা করাতে করাতে আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। ঘটনার পর থেকে বিভিন্নভাবে আপস-মীমাংসার চাপ দেওয়া হয়েছে। টাকা-পয়সার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একজন বাবা হিসেবে আমি কোনো আপস চাই না। আমি শুধু আমার মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ের কোনো দোষ ছিল না। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

বক্তারা বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের কোনো আপস হতে পারে না। কোনো প্রভাবশালী মহল বা অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে তা সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী পরিবার বিচার চাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধন শেষে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ভয়ভীতি দেখানো বা আপোষে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।”

উল্লেখ্য, উপজেলার পূর্ব লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে গত ২৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে শান্ত (২৫)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে। তবে ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।