
সিনিয়র রিপোর্টার: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম রাজু
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায় ভূমি জরিপসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা, মারধর, গলা চেপে হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক মো. রমজান মিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, মো. আব্দুর রহিম, মো. আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পউঠেছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রমজান মিয়া কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের মতো পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের যদি হামলা, নির্যাতন ও হত্যার হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।
তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সাংবাদিক মো. রমজান মিয়া তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে কাশিমপুর থানাধীন দক্ষিণ পানিশাইল এলাকার একটি ভূমি জরিপ কার্যালয়ে যান। সেখানে ভূমি জরিপসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ও তাঁদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে সাংবাদিক রমজান মিয়া দাবি করেন, হামলার সময় একজন অভিযুক্ত তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন। একই সময়ে অন্যরা তাঁকে ও তাঁর সহকর্মীদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুধু কথাকাটাকাটি বা সাধারণ বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ এতে উঠে এসেছে।
তবে অভিযোগে বর্ণিত হামলার প্রকৃত ঘটনা, জখমের ধরন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
১০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ, না গেলে আরও মারধরের হুমকি
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এ সময় অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার নির্দেশ দেন এবং অন্যথায় আরও মারধর ও হত্যার হুমকি দেন বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক রমজান মিয়া।
এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ঘটনাটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল জানা জরুরি।
সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা, নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ—উঠছে প্রশ্ন
ঘটনার শিরোনামে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার প্রশ্ন সামনে এলেও, কারা কী উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা বা সরকারি ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন প্রমাণ এখনো উপস্থাপিত হয়নি।
অতএব, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগাম সিদ্ধান্তে না গিয়ে ঘটনার পেছনের কারণ, অভিযুক্তদের ভূমিকা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আলামত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ই কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না; একইভাবে, অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।
পুলিশের তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি
এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যাচাই এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা, হামলা কিংবা প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়াও জরুরি।
এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত কাশিমপুর থানার পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে কি না, কিংবা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
প্রতিবেদক: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম রাজু
সিনিয়র রিপোর্টার
Reporter Name 















