
মোঃ রাশেদ আল শাহরিয়া
স্টাফ রিপোর্টার
দেশের জ্বালানি বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা যেন থামছেই না। আমদানিকারক, ডিলার এবং সিন্ডিকেটের চক্করে পড়ে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী এখন খুচরা ব্যবসায়ীরা। একদিকে ডিলারদের টালবাহানা, অন্যদিকে ক্রেতাদের অনীহা—সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটে পড়েছে এলপিজি খাত।
বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট কাটছেনা। খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন যে তারা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। ডিলারদের কাছে গেলে পাওয়া যাচ্ছে গতানুগতিক উত্তর—”আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে মাল সরবরাহ করা হচ্ছে না।” তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখলেও মাঝপথে ডিলাররা বেশি লাভের আশায় মজুদদারি করছেন। যখনই বাজারে দাম বাড়ার গুঞ্জন ওঠে, তখনই ডিলাররা সরবরাহ কমিয়ে দেন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে খুচরা বাজারে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত সিলিন্ডার গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে সেই দামে গ্যাস পাওয়া প্রায় অসম্ভব। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান:
তারা ডিলারদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
অতিরিক্ত দামে কেনার কারণে তারা ক্রেতাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে পারছেন না।
ক্রেতারা যখন দাম নিয়ে তর্কে জড়ান, তখন খুচরা ব্যবসায়ীদের মানসম্মান ও ব্যবসা দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়ে।
বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলার জয়জয়কার
গ্যাসের দামের অনিশ্চয়তা এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন ব্যাপকভাবে ইলেকট্রিক চুলা (Induction/Infrared Cooker) এবং রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকছে।
ক্রেতাদের অভিমত: “মাসে মাসে গ্যাসের দাম বাড়ে, আবার টাকা দিলেও সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। তার চেয়ে ইলেকট্রিক চুলা অনেক সাশ্রয়ী এবং ঝামেলামুক্ত। অন্তত ডিলারদের সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হতে হয় না। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এলপিজি সিন্ডিকেট যদি এখনই ভাঙা না যায়, তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা অচিরেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। কাস্টমাররা একবার ইলেকট্রিক বা সৌরশক্তির রান্নায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে, সিলিন্ডার গ্যাসের বিশাল এই বাজার ধসে পড়তে পারে। যার চূড়ান্ত ফল ভোগ করতে হবে সাধারণ ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদেরই। গ্যাস ডিলারদের এই অতি মুনাফার লোভ আর আমদানিকারকদের দোহাই দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। সময় থাকতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি প্রয়োজন, অন্যথায় সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসা অচিরেই তার জৌলুস হারাবে।
Leave a Reply