
ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫-এর বাসিন্দা রোহিঙ্গা যুবক আব্দুল হাফেজ (২০) হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জানা যায়, গত ২২ জুন ২০২৬ রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হন আব্দুল হাফেজ। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিকিউএম) আহসান খানের তত্ত্বাবধানে জামতলী পুলিশ ক্যাম্প ও এপিবিএনের গোয়েন্দা দল তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪ জুলাই রাতে ক্যাম্প-১৫-এর এইচ/৭ ব্লকে একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আব্দুল হাফেজের পঁচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. জমিনুর রহমান বাদী হয়ে উখিয়া থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে আটজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ২০ জুলাই রাতে ক্যাম্প-১৪ এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিক (২২)-কে গ্রেপ্তার করে জামতলী পুলিশ ক্যাম্প।
পুলিশ জানায়, ২১ জুলাই প্রধান আসামি মোহাম্মদ রফিককে আদালতে পাঠানো হলে তিনি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া তৈয়বা খাতুন, নাসিমা খাতুন ও সৈয়দুল ইসলামও একই ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
৮ এপিবিএন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।