
ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চীফ:
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে ভূমিখেকো চক্র ও রাজনৈতিক হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিকার দাবি করেছেন। শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেল মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজেএ) সিলেট বিভাগীয় কমিটির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লোকমান হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান, নগরীর শেখঘাট এলাকার ১৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু এবং তার ছেলে রায়হান ওরফে ‘কানা রায়হান’ দীর্ঘদিন ধরে তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। দখল বজায় রাখতে তারা ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করার পর লোকমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রীর মোবাইলে পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, শাহানা বেগম ও তার পরিবার আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তারা নব্য রাজনৈতিক দল এনসিপি’র ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিলেট মহানগর এনসিপি’র আহ্বায়ক আব্দুর রহমান আফজল তাদের সরাসরি সহায়তা প্রদান করেছেন। ৫ আগস্টের পর এনসিপির প্রভাব খাটিয়ে এই চক্র তার বাড়িতে ঢুকে নারী ও পুরুষদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। বর্তমানে লোকমান হোসেনের পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
লোকমান হোসেন অভিযোগ করেন, ১৬ জানুয়ারি কাজিরবাজারস্থ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কোতোয়ালী থানার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রায়হান ও রিপন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এসে তাকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ বলে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করায়। এছাড়া ১০ জানুয়ারি এয়ারপোর্ট থানার একটি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি উপস্থিত না থাকলেও ৫নং আসামি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন ওসি ও এসআই টাকা বিনিময়ে তাকে কারাগারে থাকা অবস্থায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহানা বেগম ও তার ছেলের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগও তুলে ধরা হয়। লোকমান হোসেন দাবি করেন, শানু পঞ্চম শ্রেণি পাস হলেও নিজেকে অষ্টম শ্রেণি পাস দাবি করে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। তার ছেলে রেদওয়ান ইসলাম ভুয়া এইচএসসি সার্টিফিকেট দিয়ে সিসিকের ওয়ার্ড সচিবের চাকরি করছেন এবং সুস্থ থাকা সত্ত্বেও ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী’ সেজে আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
লোকমান হোসেন জানান, ইতিপূর্বে চারবার সংবাদ সম্মেলন ও জিডি করলেও প্রশাসনের আশানুরূপ সহযোগিতা পাননি। তিনি বলেন, “প্রশাসনের ভেতর লুকিয়ে থাকা কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই চক্র আমাকে ধ্বংস করার মিশনে নেমেছে। আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি সরকারের উর্ধ্বতন মহলের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেছেন, “ভূমিখেকো ও চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে মুক্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”
Leave a Reply