মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে দুই সন্তানের জননী পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরকীয়ায় আসক্ত ঐ নারী প্রেমিকের সমন্বয়ে স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি চা বাগানের নতুন লাইনের জিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় প্রেমিক যুগলকে আটক। জানা যায়, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি চা বাগানের নতুন লাইনের জিলপাড়া এলাকার নিহত বিজয় বাউরির স্ত্রী অষ্টমী বাউরী (২৭) একই এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়ার (৩২) সাথে পরকীয়ার সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে উঠে। বৃহস্পতিবার(২৯ জুলাই ২০২১ইং) ভোর রাত ৩ টার দিকে অষ্টমী বাউরী প্রেমিক সেলিম মিয়ার সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। বিষয়টি টের পেয়ে অষ্টমীর বাসুর দয়াল বাউরী, স্থানীয় লাল বাবু বাউরী ও বাবুধন বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মনুরঞ্জন পালকে বিষয়টি অবিহিত করেন। পরে স্থানীয়রা অসামাজিক কার্যকলাপ অবস্থায় প্রেমিক যুগলকে ঘর থেকে আটক করেন। এসময় ঘরের মধ্যে বিজয় বাউরীকে অসচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে চা বাগানের কর্তব্যরত ডাক্তারকে আনার ব্যবস্থা করা হয়। ভোর ৬ টার দিকে ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে বিজয় বাউরীকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ঘরে রেখে আটক প্রেমিক যুগলকে ফুলবাড়ি বাজারে খাম্বার সাথে বেঁধে রেখে কমলগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়।প্রাথমিক অবস্থায় নিহতের শরীরে কোন ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন বিষ পানে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ফুলবাড়ি বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মনু রঞ্জন পাল এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে পরকীয়ায় আসক্ত অষ্টমী বাউরী ও প্রেমিক সেলিম মিয়া কে অষ্টমীর বাসুর দয়াল বাউরী সহ স্থানীয়রা আটক করে। আর স্বামী জ্ঞানহীন অবস্থার বিষয়টি তাকে জানালে ভোর ৬ টার দিকে তিনি বাগানে কর্তব্যরত ডাক্তার নিয়ে পরীক্ষা করান তখন কর্তব্যরত ডাক্তার বিজয় বাউরীকে মৃত ঘোষণা করেন। তারপর আমরা পুলিশে খবর দেই।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সেলিম মিয়া বেশ কয়েক বছর আগেও এলাকার আরেক চা শ্রমিকের স্ত্রীর সাথে এমন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল। পরে সামাজিক মিমাংসায় অভিযুক্ত সেলিম মিয়া বেঁচে গেলেও ঐ চা শ্রমিক তার স্ত্রীকে বিচ্ছেদ করে।কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়ারদৌস হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রির্পোট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে। স্থানীয়দের হাতে আটক প্রেমিক যুগলকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
Leave a Reply