মিজানুর রহমান : গত কিছুদিন ধরে আশুলিয়া এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ও কামড়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ স্ট্যান্ড, ডেন্ডাবর পূর্বপাড়া, পলাশবাড়ী বটতলা, বাইপাইল নামাবাজার, ফকিরবাড়ির মোড়সহ বিভিন্ন অলি-গলিতে সকাল ও রাতে বেওয়ারিশ কুকুরের দল ঘোরাফেরা করছে। এতে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত কেউই নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হতে ভয় পাচ্ছেন পথচারীরা। ফলে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন পথচারী বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সকালে স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরা শ্রমজীবী মানুষ বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। গলির মোড় ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে দলবদ্ধ হয়ে থাকা কুকুরগুলো হঠাৎ পথচারীদের ওপর আক্রমণ করছে। গত পরশু রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় উজ্জ্বল (২১) নামে এক যুবক কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু পথচারী নয়, বাড়ির সামনে কিংবা আঙিনায় খেলাধুলার সময় ছোট শিশুদের ওপরও আক্রমণ করছে এসব বেওয়ারিশ কুকুর। অনেক কুকুরের মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হঠাৎ করে কুকুরের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। এদিকে, বেওয়ারিশ কুকুর নিধন আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক ও আইনসম্মত উপায়ে সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কুকুরের বন্ধ্যাকরণ এবং নিয়মিত জলাতঙ্কবিরোধী টিকাদান কর্মসূচি (এনআরভি) জোরদার করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কুকুরগুলোকে চিহ্নিত করে নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
