
কে এম নাছির উদ্দিন সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার : স্ত্রী-ছেলের নামেও কোটি টাকার সম্পদ—রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার, আদালতে পাঠিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রভাব আর ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ। কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রবিবার (৩ মে) গভীর রাতে পাবনা সদর উপজেলার গোপালপুরে নিজ বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৪ মে) দুপুরে তাকে পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৮ মে তার, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন এবং ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের নামে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় দুদক। ওই বছরের ৩ জুলাই তারা সম্পদের হিসাব জমা দেন। কিন্তু সেই হিসাবেই ধরা পড়ে বিপুল অসঙ্গতি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদ নিজে ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের নামে পাওয়া গেছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকার সম্পদ, আর ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের দখলে রয়েছে আরও ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদ—যার সবই জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। দুদক জানায়, এসব সম্পদ অর্জন ও গোপনের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এদিকে, আবুল কালাম আজাদের গ্রেপ্তারের খবরে শাহজাদপুরজুড়ে স্বস্তি ও সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাবিখা, কাবিটা ও টিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দের বড় অংশ কাটছাঁট করে আত্মসাৎ করতেন। শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর মহল্লার বাসিন্দা মোতাহার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “প্রকল্পের ৮০ শতাংশ টাকা পর্যন্ত কেটে নিতেন তিনি। এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায়নি। বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।” স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়—দুর্নীতির এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের পূর্ণ তদন্ত করে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।