
বগুড়ায় কনস্টেবল মানিকের মন্তব্যে সারাদেশে সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ “ক্যামেরা না থাকলে সাংবাদিক নন” এবং “দেশের ৯৫ শতাংশ সাংবাদিকের ক্যামেরা কেনার সামর্থ্য নেই”— বগুড়ায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মানিকের এমন মন্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সারাদেশের সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা কনস্টেবল মানিকের এই বক্তব্যকে সাংবাদিক সমাজের প্রতি অবমাননাকর, বিদ্রূপাত্মক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেক সংবাদকর্মী মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই ভিডিও ধারণ, তথ্য সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশন করে থাকেন। ফলে শুধুমাত্র পেশাদার ক্যামেরাকে সাংবাদিকতার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অজ্ঞতাপূর্ণ ও হাস্যকর বলে মনে করছেন তারা।
এ ঘটনায় বগুড়ার সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম বগুড়ার সাংগঠনিক সম্পাদক, এশিয়ান টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ও উত্তরাঞ্চলের ব্যুরো প্রধান এবং গ্লোবাল টিভির ব্যুরো প্রধান মোঃ জিল্লুর রহমানকে জনসম্মুখে একজন কনস্টেবলের এভাবে অপমান করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা।
তাদের ভাষ্য, কনস্টেবল মানিকের বক্তব্য শুধু একজন বা দু’জন সাংবাদিককে নয়, বরং সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে অপমান ও হেয় প্রতিপন্ন করেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন— একজন দায়িত্বশীল প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী কী উদ্দেশ্যে সাংবাদিক সমাজকে নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্য করলেন?
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রকৃত সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব, বৈধ পরিচয়পত্র, দক্ষতা, সাহসিকতা ও সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমেই পরিচিত। ক্যামেরা থাকলেই কেউ বড় সাংবাদিক হয়ে যান না, আবার ক্যামেরা না থাকলেই কেউ সাংবাদিক নন— এমন ধারণা সম্পূর্ণ অজ্ঞতাপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।”
বগুড়াসহ ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মানিককে দ্রুত সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি ও বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সাংবাদিক সমাজের দাবি, একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। অথচ কনস্টেবল মানিকের এমন বক্তব্য রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক সমাজের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।