
নিজস্ব প্রতিবেদক:– গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে সুবিধা প্রদান এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে ধারাবাহিকভাবে সুবিধা দিয়ে আসছেন। তাদের ভাষ্য, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি নির্মাণকাজে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যার মাধ্যমে একই গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে কাজ ও অন্যান্য সুবিধা পেয়ে আসছে।
দুদকে দাখিল করা আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে পরিবর্তনের পর মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের প্রশাসনিক প্রভাব আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন। কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য, অতীতেও তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বদলি, পদায়ন ও টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়েছেন এবং সেই প্রভাব এখনো বহাল রয়েছে।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজধানীতে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বাংলো ও খামারবাড়ি, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায় বিনিয়োগসহ তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের উৎস তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সম্পদের প্রকৃত উৎস ও অর্থের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।
এ ছাড়া গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাভার সার্কেল থেকে ঢাকা গণপূর্ত-১ সার্কেলে তার বদলি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের অভিযোগ, সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তাকে উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই পদায়ন নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী জেসমিন দাবি করেছেন, পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তবে রোখসানা আক্তার মিম দাবি করেছেন, তারা বৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের টেন্ডার কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।