
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:
মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি যাওয়ার অনাবিল আনন্দে ভাসছিল দশ বছরের ফুটফুটে শিশু সুমাইয়া। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে, এক মুহূর্তের অসাবধানতায় পথিমধ্যেই নিভে গেল নিষ্পাপ প্রাণটির জীবনের সব আলো।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় চলন্ত অটোরিকশার চাকার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লেগে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে সুমাইয়া (১০) নামের এই শিশুটির।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের চান্দেরহাট এলাকার স্লুইসগেট সংলগ্ন সড়কে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নিহত সুমাইয়া গজালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শামিম মোল্লার মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া তার মায়ের সাথে অটোরিকশা চড়ে কলাগাছিয়া থেকে আমখোলায় নানাবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। অটোরিকশাটি যখন চান্দেরহাট এলাকায় পৌঁছায়, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে চলন্ত গাড়ির চাকার সাথে সুমাইয়ার পরিহিত ওড়নাটি শক্তভাবে পেঁচিয়ে যায়। ওড়নার প্রচণ্ড টানে মুহূর্তের মধ্যেই গলায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে অটোরিকশার ভেতরেই লুটিয়ে পড়ে সে। স্বজনদের দাবি, ওড়নার ফাঁস লেগে ঘটনাস্থলেই না-ফেরার দেশে চলে যায় ছোট্ট সুমাইয়া।
দুর্ঘটনার পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। পরে তারা নিথর দেহটি উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। আনন্দের যাত্রাপথ এভাবে যে এক নিমেষে কান্নার সাগরে ভেসে যাবে, তা যেন কল্পনাতীত ছিল না কারও কাছে।সুমাইয়ার হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় এক গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে।
খবর পেয়ে কলাগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক এসআই মো. আল হেলাল সিকদার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।