
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রতনপুর পাঁচখালী এলাকায় পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক ড্রেন বন্ধ করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রভাব খাটিয়ে পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করে দেওয়ায় এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে প্রায় অর্ধশত পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী বাসিন্দা অমল কৃষ্ণ পাল নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি জায়গা দখল করে এই বিশাল দুইতলা পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অমল কৃষ্ণ পালের বসতবাড়ির পাশ দিয়ে বহু বছর যাবৎ একটি প্রশস্ত নালা বিদ্যমান ছিল, যা দিয়ে রতনপুর এলাকার বৃষ্টির পানি ও গৃহস্থালি বর্জ্য স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতো। কিন্তু সম্প্রতি অমল কৃষ্ণ পাল সেই নালার জায়গা ভরাট করে ভবন তোলা শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা প্রদান করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ও তার ছেলে শান্ত পাল পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে এবং এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে ড্রেনটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে এবং চারপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে বিশেষ করে শিশু এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অমল কৃষ্ণ পাল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রকার বৈধ অনুমতি বা নকশা অনুমোদন ছাড়াই এই ভবন নির্মাণ করছেন। এমনকি নির্মাণ চলাকালীন সময়ে টিঅ্যান্ডটি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের জমিতে অনধিকার প্রবেশের বিষয়ে বাধা দেওয়া হলে, তাদের সাথেও চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দখল ও ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে অমল কৃষ্ণ পাল ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণ করছি, এতে কার বাড়ি ডুবলো বা কার ক্ষতি হলো তা দেখার দায়িত্ব আমার নয়।” তবে সরকারি জমি ও নালা দখলের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল খায়ের মো. বাবুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অমল কৃষ্ণ পালের বাড়ির দক্ষিণ পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের যে প্রাচীন নালাটি ছিল, সেটি বন্ধ করে দেওয়ায় আজ ৪০-৫০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জনগণের এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নালাটি উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। সার্বিক বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজার মোঃ ইজাজুল হক জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং ভুক্তভোগীরা একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যাতে পুনরায় পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত হয় এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে।