
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাজানো একটি পরিবার কীভাবে ধ্বংসাত্মক মাদকের নীল ছোবলে অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে, তার এক করুণ ও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে। উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের চৌদ্দকানি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মিজানুর রহমান মিয়াজীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৭) ও তার ছেলে ইমন মিয়াজী (২৩) এবং এই চক্রের আরও দুই সহযোগী মো. রিয়াজ মাহমুদ ইভান (২৫) ও মো. শাকিল সর্দার (১৯) কে আটক করে পুলিশ এবং মাদক বিক্রির নগদ ৭ হাজার ২৯০ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৪মে) দিবাগত নিস্তব্ধ রাত ১১টার দিকে গুরিন্দা বাজার সংলগ্ন মো. মিজানুর রহমান মিয়াজীর বসতঘরে যখন মাদকদ্রব্য ইয়াবা বেচাকেনা চলছিল, ঠিক তখনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গলাচিপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অতর্কিত হানা দেয়। অভিযানে ঘর থেকে মা ও ছেলের এই অশুভ ব্যবসার হাতেগোনা প্রমাণসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্যগুলো ছিল আরও চমকপ্রদ ও বেদনাদায়ক। জানা যায়, পরিবারের সচ্ছলতার আশায় ইমন যখন ঢাকায় বাসের হেলপারী শুরু করেন, তখন থেকেই এক অদৃশ্য অন্ধকার জগতের সিন্ডিকেটের সাথে তার সখ্য গড়ে ওঠে। সেই অন্ধকার জগতের প্রলোভনে পড়ে নিজের সাজানো সংসারকেও তিনি নামিয়ে আনেন নরকের পথে। মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ৯ মাস আগে শুরু করা এই মরণনেশায় তিনি শুধু নিজেকেই নয়, নিজের জন্মদাত্রী মাকেও জড়িয়ে ফেলেন। তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় বড় ইয়াবার চালান এনে স্থানীয় যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছিলেন। সর্বশেষ ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে আনা একটি বড় চালান নিয়ে তারা বাড়িতে বসে বিক্রির পরিকল্পনা করছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জিলন সিকদার আবেগময় কণ্ঠে বলেন, “মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে কঠোর অভিযানের বিকল্প নেই। এই মা ও ছেলের পরিণাম সমাজের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।” তিনি আরও বলেন যে, সারা দেশে মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলস কাজ করছে এবং এক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ স্থানীয়দের ভালোবাসা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। গভীর রাতে বিপুল এই মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন এক চাঞ্চল্যকর ও বিষাদময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে।