
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভায় লামিয়া (২২) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত লামিয়া পেশায় একজন নৃত্যশিল্পী এবং স্থানীয় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি আলমগীর ও ময়না দম্পতির কন্যা।
নিহতের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামিয়ার পারিবারিক জীবন বেশ জটিল আবর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে তাঁর দুটি বিয়ে হলেও কোনোটিই টেকেনি। সর্বশেষ সৌদি প্রবাসী মেহেদী নামের এক ব্যক্তির সাথে তাঁর তৃতীয় বিয়ে হয়। লামিয়ার দুটি সন্তান রয়েছে, যারা বর্তমানে তাদের নানীর কাছে থাকে। জীবিকার তাগিদে লামিয়া বিভিন্ন এলাকায় নৃত্য পরিবেশন করতেন।
নৃত্যের সূত্র ধরেই আমখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শান্তিবাগ এলাকার নাসির পালোয়ানের বাসার ভাড়াটিয়া ঝুমুর নামের আরেক নৃত্যশিল্পীর সাথে লামিয়ার সখ্যতা গড়ে ওঠে।
ঝুমুর জানান, গত ৪-৫ দিন আগে প্রবাসী মেহেদী তাকে ফোন করে বলেন যে, লামিয়ার নাচ-গান করা তিনি পছন্দ করছেন না। তাই লামিয়াকে যেন ঝুমুর নিজের কাছে রাখেন এবং এর যাবতীয় খরচ তিনি বহন করবেন। এরপর থেকেই লামিয়া ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার দিন ঝুমুর একটি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে ভোলায় অবস্থান করছিলেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকেও লামিয়ার সাথে তাঁর ফোনে স্বাভাবিক কথা হয়। তবে এর মাত্র আধা ঘণ্টা পর, সাড়ে ১১টার দিকে প্রবাসী স্বামী মেহেদী দূর দূরান্ত থেকে ঝুমুরকে ফোন করে জানান, লামিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন এবং তাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। ঝুমুর তাৎক্ষণিকভাবে লামিয়ার পরিবার ও বাড়ির মালিককে ফোনে না পেয়ে সানজিদা নামের তাঁর এক দূর সম্পর্কের বোনকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠান। ঘটনার আগের রাতে সানজিদাও ওই বাসায় লামিয়ার সাথে ছিলেন, তবে সকালে তিনি নিজের বাসায় চলে যান।
সানজিদা ও বাড়ির মালিকের স্ত্রী পারভীন বেগম জানান, বাসায় গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে লামিয়াকে খাটের ওপর ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। এদিকে, ঘটনার সময় ওই ঘরের বারান্দায় সংস্কার কাজ করছিলেন কাঠমিস্ত্রি জয়নাল ও আমিরুল। তারা জানান, মৃত্যুর কিছু সময় আগে ঘরের ভেতর থেকে লামিয়াকে ফোনে কারও সাথে প্রচণ্ড উচ্চবাচ্য ও তুমুল কথা কাটাকাটি করতে শুনেছেন তারা।
খবর পেয়ে গলাচিপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু মিলেছে। লামিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করার সময় সেটি ভিডিও রেকর্ডিং বা ভিডিও ধারণ করা অবস্থায় সচল ছিল। এই ভিডিওটি ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে।
এই মর্মান্তিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারসহ গোটা এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই মৃত্যুর পেছনে কোনো প্ররোচনা বা রহস্য থাকলে তা দ্রুত উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।