
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বর্তমান বছরের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ‘সুস্থ শিশু, সমৃদ্ধ আগামী’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেসরকারি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে এক বিশেষ ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দেশ থেকে হাম-রুবেলা নির্মূলে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত এই কর্মশালায় মূল লক্ষ্য ছিল ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা। এই বয়সের কোনো শিশুই যেন টিকার আওতা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোঃ ইজাজুল হক বলেন, “একটি সুস্থ জাতি গঠনে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় ধর্মীয় কুসংস্কার বা ভিত্তিহীন সামাজিক গুজবের কারণে অভিভাবকরা শিশুদের টিকা দিতে দ্বিধাবোধ করেন। শিক্ষকদের দায়িত্ব হবে সেই অন্ধকার দূর করা। আপনাদের মাধ্যমেই প্রতিটি ঘরে ঘরে টিকার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মেজবাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি ডাঃ আহসান এবং ডাঃ পংকজ কুমার ভৌমিক। তারা কারিগরি দিক তুলে ধরে জানান, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা সঠিক সময়ে টিকা প্রদানের মাধ্যমে শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তারা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে টিকার কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল মেডিকেল অফিসারবৃন্দ এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মু. খালিদ হোসেন মিল্টনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সকলে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যেন গলাচিপা উপজেলা টিকাদান কর্মসূচিতে জেলায় মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। সভা শেষে শিক্ষকদের হাতে প্রচারপত্র ও গাইডলাইন তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত শিক্ষকরাও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর দোরগোড়ায় এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী ক্যাম্পেইন চলাকালীন স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে বিশেষ বুথ স্থাপনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।