শিরোনাম :
জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক পদে পদোন্নতি পেলেন মোজাম্মেল হোসেন বাবু ধামরাইয়ে বিজ্ঞান মেলা নীলফামারী সদরে বিসমিল্লাহ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে সাড়ে ৬২ লাখ টাকার কো*কেন ও হি*রোইন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৬ বিজিবি) নীলফামারী। রাজশাহীতে হাসিনাসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা কোটচাঁদপুরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায় জনগণের রোষানলে সাব রেজিস্ট্রার ঝিনাইদহে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট দিতে গিয়ে ভোটারের মৃত্যু Daily Detectivenews কেরানিগজ্ঞের বিপুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গোদাগাড়ীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার মিরপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ শাহজাদপুরে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের কাছে ছাত্রলীগ নেতার চাঁদা দাবির অভিযোগ

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ৭৩ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত সতর্কতার মধ্যে প্রস্তুত ৪৮০ ভোটকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩
  • ১৩৮ বার পঠিত

রাত পোহালেই গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। সেজন্যে ৭৩ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত সতর্কতার মধ্যে প্রস্তুত ৪৮০ ভোটকেন্দ্র। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৪৬ জন এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৭৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। ইতি মধ্যে১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ফয়সাল আহমেদ সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। ফলে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কমিশন। সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হয় নির্বাচনের সরঞ্জাম। নির্বাচন উপলক্ষে ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ জন এবং নারী ভোটার পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১৮ জন। গাজীপুর সিটিতে মোট ভোট কেন্দ্র ৪৮০টি। ভোটের আগের বুধবার দিন নিরাপত্তার জন্য সকালে ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমবেত হয় গাজীপুর মহানগরের বরকত স্টেডিয়ামে। সেখানে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে নানান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম, রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানসহ পুলিশ ও বিজিবির কর্মকর্তারা। এ সময় মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ভোটের দিন সব প্রার্থীর এজেন্টদের নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটের দিন পুলিশকে সর্বোচ্চ কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশও দেন তিনি। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ৪৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৫১টি আর ১২৯টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আটজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৩৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৭৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। রাত পোহালেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই সিটির তৃতীয় নির্বাচন এটি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে চলবে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ। এ জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তথ্যসুত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বুধবার সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে ইভিএমসহ ৪৬ ধরনের সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এই সিটির নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪৮০টি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে তিন হাজার ৪৯৭টি ভোটকক্ষ। এখানে ভোটারের সংখ্যা ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল ইসলাম জানান, আজ দুপুর ১টা থেকে একযোগে গাজীপুর জেলা প্রশাসন কার্যলয় চত্বর, শহরের কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা বুঝে নিচ্ছেন এসব সরঞ্জাম। তিনি আরও জানান, প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য বিতরণ করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ইভিএম, অমোছনীয় কালি, হ্যান্ড সেনিটাইজার, ভেসলিন, ভোটার তালিকা, বুথ কক্ষ নির্মাণের জন্য কাপড়, স্ক্রু-ড্রাইভার, মখমলের কাপড়, টিস্যু পেপার, মাল্টিপ্লাগসহ ৪৬ ধরনের সামগ্রী। অপরদিকে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ইলেকট্রনিক ভোটি মেশিন (ইভিএম) পৌছে দেওয়া হচ্ছে। সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। সকালে ৪৮০টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভোটাররা। এর মধ্যে ৩৫১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ১২৯টিকে সাধারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ হিসাবে ৭৩ শতাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। এবিষয়ে নির্বাচন কমিশন বলেন, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সে যে দলেরই হোক, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য বলা হয়েছে। অনিয়মের মাত্রার ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কী নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে। এই কমিশনার বলেন, নির্বাচনি এলাকায় র‌্যাবের ৩০টি টিম এবং ১৩ প্লাটুন বিজিবি রয়েছে। এছাড়া পুলিশের ১৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ৫৭টি মোবাইল টিম রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী স্পতিবারের ভোটে নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন আগামী দিনের নগরপিতা। দিনশেষে জানা যাবে কারা হচ্ছেন সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর। মেয়র পদে প্রার্থী আটজন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খান এবং সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের মধ্যে। এ নির্বাচনে আজমত উল্লা খান দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ এবং জায়েদা খাতুন ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। সরেজমিনে দেখাযায়, এবারের নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের উৎসাহ কম থাকলেও আছে চাপা আতঙ্ক। ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। প্রতি কেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরা। গাসিক নির্বাচনে ৪৮০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এলাকাবাসী চায় একটি সুষ্ঠ নির্বাচন। এবিষয়ে ভোটের ব্যালটে নৌকা ও টেবিল ঘড়ি প্রতীক থাকলেও নির্বাচনি মাঠে বাস্তবে আজমত উল্লা খান এবং সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় তিনি মাকে নিয়ে এ নির্বাচনে লড়ছেন। মায়ের মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তার জানান দিতে চাচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম। যদিও জায়েদা খাতুন জীবনে প্রথমবার নির্বাচন করছেন। রাজনীতিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণও ছিল না। অপরদিকে আজমত উল্লা খান সাবেক টঙ্গী পৌরসভার তিনবারের মেয়র ছিলেন। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগেরও সভাপতি। অপরদিকে এই প্রথম বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়াই গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট হচ্ছে। দলটির ২৯ জন নেতা কাউন্সিলর পদে ভোট করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা তাই প্রকাশ্যে মাঠে নামেননি। অপরদিকে আজমত উল্লা খান ও জাহাঙ্গীর আলম রাজনীতিতে একই ঘরানার হওয়ায় তাদের নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে কিছুটা হলেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। আজমত উল্লা খান নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারলেও জায়েদা খাতুনের প্রচারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। নির্বাচনি মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। তাদের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও আছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬-১৭ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com