
বিশেষ প্রতিনিধি, এস এম জসিম:
অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটে জিম্মি সাধারণ মানুষ’ এবং ‘চমেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নৈরাজ্য: সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি রোগী ও স্বজনরা’ শীর্ষক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এ. জি. এম. মনিরুল হাসান সরকার।
সোমবার (৮ জুন) জারি করা এক প্রশাসনিক আদেশে এই ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে বাইরের কোনো বৈধ অ্যাম্বুলেন্স বা স্বজনদের নিজস্ব গাড়ি প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না।
প্রকাশিত সংবাদ ও ভিডিওচিত্রে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গকেন্দ্রিক একটি চক্রের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং অবৈধভাবে সাইরেন ও নীল বাতি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি ও সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন ধারায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সিন্ডিকেটের মূল হোতা, চাঁদাবাজ, হামলাকারী ও ভুয়া অ্যাম্বুলেন্সের মালিকদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করতে হবে।
নির্দেশনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধার মুখে না পড়ে নিজেদের পছন্দমতো অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং ভ্যান বা অন্য যানবাহনে রোগী কিংবা মরদেহ নিয়ে যেতে পারেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, মর্গ, বহির্বিভাগ ও অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ গ্রহণে অভিযোগ কেন্দ্র বা হেল্পলাইন চালুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জননিরাপত্তা ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য বলা হয়েছে।