
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ,স্টাফ রিপোর্টার:
চুয়াডাঙ্গার জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠভরা পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম শ্রমিক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা একদিকে টানা এক সপ্তাহের বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে সব মাঠের ধান একসাথে পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে, বর্তমানে এক মণ ধানের দাম দিয়েও মিলছে না একজন শ্রমিক, যা নিয়ে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চুয়াডাঙ্গা জেলায় কার্পাসডাঙ্গায় , ডিঙ্গেদাহে প্রতিদিন ভোরে বসে শ্রমিকের হাট। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে শ্রমিকের চেয়ে ক্রেতা বা কৃষকের ভিড়ই বেশি। এক জন শ্রমিক পেতে কৃষকদের রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। অর্থাৎ, এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা সদরে উপজেলার কোটালী গ্রামের এক কৃষক জানান তার করুণ অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন দুই বিঘা জমির ধান পেকে মাঠে পড়ে ছিল। শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছিলাম না। অবশেষে দুধপাতিলা গ্রাম থেকে ১০০০ টাকা মজুরিতে ৫
জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটিয়েছি। কিন্তু রাতে বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজে এখন নষ্ট হওয়ার পথে। শুকানো ও মাড়াইয়ের জন্য আবারও বাড়তি শ্রমিক লাগবে। কৃষক হিসাব অনুযায়ী, দুই বিঘা জমির ধান রোপণ থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে ধান উৎপাদন হবে ৪২ থেকে ৪৪ মণ যার বর্তমান বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা। ফলে দুই বিঘা জমিতেই তার প্রায় ১০হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। একই আশঙ্কার কথা জানালেন উজলপুর গ্রামের কৃষক আনিছুর মিয়া।তিনি বলেন, ‘আগে যে শ্রমিকের মজুরি ছিল ৪০০-৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। ধান কাটতে যে খরচ হচ্ছে, তাতে আমাদের মতো সাধারণ চাষিদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাই একসাথে ধান কাটতে শুরু করায় শ্রমিকের ওপর চাপ বেড়েছে সর্বশেষ চুয়াডাঙ্গায় চাষীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেছে