ছবি তুইল্লেন না! ছবি তোললে সাংবাদিকতা এ্যাক্কালে ইসে ডুকাইয়া দিমু। কথাগুলো বলেছেন ডা: একেএম মাহমুদ রাসেলের ড্রাইভার। ঝালকাঠির রাজাপুর হাসপাতালে তখন আহত এক রোগির মাথা সেলাই দিচ্ছিলেন ডাক্তারের ড্রাইভার সোহাগ। হঠাৎ উপস্থিত সাংবাদিকের চোখে দৃশ্যটি ধরা পড়লে দ্রুত ক্যামেরা চলে যায় ড্রাইবারের দিকে। তখন উত্তেজিত হয়ে সেলাই কাজে নিযুক্ত ড্রাইভার সোহাগ সাংবাদিককে এরুপ কটুক্তি করেন।
ডাঃ রাসেলের সামনেই সাংবাদিককে এরুপ হেনস্থা করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ডাক্তার রাসেল নিজে উপস্থিত থেকে ড্রাইভার সোহাগকে নাকি কাটাছেড়া সেলাই দেয়া শিক্ষা দেন। আসলে ডাক্তারের কাজ কি ড্রাইভারের? তাহলে নীতি নৈতিকতা আর দায়িত্ববোধ থাকলো কোথায় ডাঃ রাসেলের!
রাজাপুর সরকারি হাসপাতালে রুগীদের চিকিৎসা দিয়ে সরকারি হাসপাতালের টাকা কালেকশন করে গাড়ীর ড্রাইভার সোহাগ।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সরকার কর্তৃক ৭ জন উপ-সহকারী চিকিৎসক সেবাদানে নিয়োগকৃত থাকলেও তাদের দিয়ে জরুরী বিভাগের কাজ না করিয়ে ডাঃ রাসেল এর ক্যাডার ও গাড়ীর ড্রাইভার হাসপাতালে রোগীকে সেলাই দেয়া এবং ইচ্ছে মাফিক টাকা নেয়া হয়, যা ওপেন সিক্রেট। সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে বলে এই ছবি টবি তুইলেন না হেলে কিন্তুু ক্যামেরা ইসের মধ্যে দিয়া থুমু। এরুপ আচরণে স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিক সংগঠন নেতৃবৃন্দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দীর্ঘদিনের।
সাংবাদিকের উপস্থিতিতেও ডাক্তার রাসেল ড্রাইভারের গালাগাল সমর্থন করে এবং তাকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ডাঃ রাসেলের বাড়ি রাজাপুরে হওয়ার সুবাধে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে রোগীদের সাথে অশোভন আচরণ ড্রাইভার, পিয়ন,সুইপার,নাইটগার্ড নন-মেডিকেল লোক দিয়ে জরুরী বিভাগের চিকিৎসা দেয়া হয়। এরা সেলাই দিয়ে ডা: রাসেলের বাসায় রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা পত্র দেন। ফলে রোগীরা বাসায় গেলে লজ্জায় পরেও ভিজিট দিতে বাধ্য হন। অনেক সময় ডা: রাসেলকে দাড়িয়ে থেকেও ড্রাইভার পিয়ন দিয়ে চিকিৎসা করাতে দেখা গেছে।
প্রশ্ন হল রাজাপুর হাসপাতালে বেশ কয়েক জন এমবিবিএস ডাক্তার ও ৫/৭ জন ডিএমএফ মানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার থাকলেও তাদের দিয়ে জরুরী বিভাগের চিকিৎসা না দিয়ে কেন ড্রাইভার,পিয়ন,নাইটগার্ড, সুইপার দিয়ে জরুরী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় ঝালকাঠি নাগরিক ফোরাম এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফ রাজাপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।
Leave a Reply