
শারমিন আরা,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের কাছ থেকে ড্রেসিংয়ের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ক্লিনার) দিয়ে ড্রেসিং করিয়ে প্রতিবারে ১০০ টাকা করে দাবি করা হচ্ছে, টাকা না দিলে মিলছে না সেবা। আর এই অনিয়মের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের চরম তোপের মুখে পড়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ড্রেসিংয়ের নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, দক্ষ নার্স বা ব্রাদারদের পরিবর্তে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা (ক্লিনার) রোগীদের ক্ষতস্থানের ড্রেসিং করছেন। আর প্রতিবার ড্রেসিংয়ের বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা কম দিতে চাইলে রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং ড্রেসিং না করেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“হাসপাতালে এসেছি সরকারি খরচে চিকিৎসা পেতে।
কিন্তু এখানে প্রতিবার ড্রেসিং করতেই ১০০ টাকা করে দেওয়া লাগছে। ক্লিনাররা হাত বাড়িয়ে টাকা চাচ্ছে, না দিলে ড্রেসিং করতে চায় না। আমরা গরিব মানুষ, প্রতিদিন এত টাকা কোথায় পাব?”
প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও
আজ (১৯ জুলাই) হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে এভাবে টাকা আদায়ের প্রকাশ্য অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে যান।
তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট ক্লিনারদের কাছে এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারণ এবং নিয়মের বিষয়ে জানতে চান।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই সেখানে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কোনো সদুত্তর দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে পড়েন উপস্থিত ডাক্তার, নার্স ও ক্লিনাররা। তারা সাংবাদিকদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
কর্তব্যরত কয়েকজন নার্স ও ক্লিনার সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতালের ভেতরের এমন অপেশাদার আচরণ ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ রোগীরা। হাসপাতালের
পরিবেশ ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা জানান, সরকারি হাসপাতালে ড্রেসিং বা অন্য কোনো সাধারণ সেবার জন্য রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ এবং টাকা আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।