
এন এস. ফারুক
স্টাফ রিপোর্টার তারাগঞ্জ (রংপুর)
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৯টি অবৈধ ইটভাটা মধ্যে দুটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের উজিয়াল এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে “এইচবিএল-২” নামে একটি ইটভাটা এস্কেভেটরের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। ভাটাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও মালিকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়নি। এর আগে একই মালিকানাধীন “এইচবিএল-১” ভাটাটি গত বছরের ৪ মার্চ ভেঙে দিয়ে জরিমানা করা হয়েছিল। পাশাপাশি “এইচবিএল-২” ভাটায় আগেই পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে সতর্ক করেছিল প্রশাসন।
জানা যায়, বাংলাদেশ ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপনা (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৯ (সংশোধিত) এর ৫(২) ধারাসহ বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘনের দায়ে ভাটাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে ইটভাটার মালিকপক্ষ উপস্থিত থাকলেও তারা প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন।
রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এ যৌথ অভিযানে অংশ নেয় র্যাব-১৩, লাইন পুলিশ ও তারাগঞ্জ থানা পুলিশ।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান উল ইসলাম জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটাটি অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করিয়া আসিতেছে।
প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় এটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারাগঞ্জে অবস্থিত অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও জানান, পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইট ভাটার মালিক ও কর্মচারী জানান,অনেক অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, যারা প্রতি মাসে পরিবেশে অধিদপ্তরের মাসোরা দেয়, তাদের অবৈধ ইটভাটা দেবদ্বাছে চলছে, সেখানে অভিযান চালানো হয় না। ঘুষ দিলে চালানোর অনুমোদন দেয়, আর না দিলে ভেঙ্গে দেয়। এদের কাছে এটাই আইন ও নিয়ম।