আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে গত ২ দিনে সাতক্ষীরার ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যু চক্র। রবিবার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদী, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘আলিম ডন’ ও ‘নানাভাই বাহিনী’র সদস্যরা এসব জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিংহড়তলী, হরিনগর, কুলতলি, কদমতলা, ধুমঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরা। তাদের মধ্যে মোমনি ফকির, মুর্শিদ আলম, ইসমাইল শেখ, আব্দুল করিম, আব্দুস সামাদ, মনোহর সরকার, আল মামুন, হুমায়ুন, মনিরুল, রবিউল, সঞ্জয়, আল আমিন, শাহাজান, আবুল বাসার বাবু, রেজাউল, আব্দুস সালাম ও আবুল কালামসহ আরও অনেকে রয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন জেলেকে মুক্তিপণের শর্তে ছেড়ে দিলেও এখনো ১৭ জন জেলে জলদস্যুদের কবলে জিম্মি রয়েছেন। মুক্তি পাওয়া জেলেরা হলেন ধ্রুব সরকার, হৃদয় মন্ডল, সবুর গাইন, সাইফুল ইসলাম ও ইউনুস আলী। ভুক্তভোগী পরিবার ও ফিরে আসা জেলেরা জানান, চার থেকে পাঁচদিন আগে কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে তারা সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যান। পরে বিভিন্ন খালে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার সময় ২৮ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র জলদস্যু তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত ২২ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জিম্মি জেলেদের স্বজনরা জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মুক্তিপণের অঙ্ক জানানো হয়নি। তবে মোবাইল নেটওয়ার্কে ফিরলেই জলদস্যুরা যোগাযোগ করে টাকা দাবি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিরে আসা জেলেদের অভিযোগ, একেবারে লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেই জলদস্যুরা অপহরণ চালাচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে মাত্র ১০-১২ মিনিট নৌপথ দূরত্বের মধ্যে থেকেও জেলেদের তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাকেই নির্দেশ করে বলে তারা দাবি করেন। এ বিষয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। অন্যদিকে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।