
পুলিশের দাবি, তারা এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। অভিযানে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল, ধারালো ডেগার, বিভিন্ন ধরনের চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে সুলতান ও পারভেজের নেতৃত্বে ওই কিশোর গ্যাং পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্থানীয় কিশোরদের ওই গ্রুপে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ এবং রাজি না হলে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সাফিয়াল যাবের নিরব নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে মান্দা থানা পুলিশ। পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুনরায় গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা করা হয়। ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা, রাণীনগর থানা ও মান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাওনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সুলতান ও পারভেজের ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাদের গতিরোধ করতে নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পার্শ্ববর্তী জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ আগস্ট রাতে বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজ থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষ দল। পরে তাদের সঙ্গে নিয়ে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও মান্দার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের কাছে অস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে তাদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে সুলতানের বাড়ির একটি কক্ষের চালের কার্নিশের ওপর থেকে কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, একটি খেলনা পিস্তল ও একটি ধারালো ডেগার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি পুরোনো চাকু, একটি খুর চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় জানা যায়, সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় চৌকিদারের ছেলের হত্যা মামলাসহ সাইবার সুরক্ষা আইন, মারামারি ও অন্যান্য ঘটনায় মোট চারটি মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যা মামলায় তারা দুজনই প্রায় আট মাস কারাগারে ছিলেন। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুজন প্রায়ই মানুষের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে সঙ্গে সুইচ গিয়ার চাকু রাখতেন। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দেশীয় তৈরি লোহার পিস্তল আকৃতির একটি ওয়ান শুটার গান, দুই পাশ ধারালো একটি ডেগার, যার হাতলসহ দৈর্ঘ্য ১৮ ইঞ্চি এবং হাতল ছাড়া ১২ ইঞ্চি, একটি খেলনা পিস্তল, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি পুরোনো চাকু ও একটি খুর চাকু। সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মান্দার স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে মোস্তাসিন মামুন নওগাঁ