বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে)
সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের কবর রামনাবাদ নদীর
ভাঙ্গণের কবলে পড়েছে।এছাড়াও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী,
ডাকুয়া, হোগলবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
রামনাবাদ নদী ভাঙ্গণে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নে প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ
মাহমুদের কবরটি যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদী
থেকে কবরের দূরত্ব ৯০-১০০ ফুট প্রায়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ
মাহমুদের স্মৃতি চিহ্নটুকুও হারিয়ে যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীসহ স্থানীয়
গণমাধ্যমকর্মীরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় নদীর পানির স্তর ও স্রোত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক
বেড়ে গেছে। এ কারণে নদীর ভাঙ্গণ আগের তুলনায় তীব্রতর রূপ ধারণ করেছে। নদীর সর্বনাশা
ভাঙ্গণে স্থানীয়দের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। নদীর করাল গ্রাসে রেহাই পাচ্ছে না কিছুই।
এছাড়া ডাকুয়া ইউনিয়নের শত শত বসতঘর ও ফসলি জমি ভাঙ্গণের মুখে রয়েছে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদি ইউনিয়নের (বিএফইউজের) সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের কবর নদী ভাঙ্গণের কবল থেকে রক্ষার আহবান জানিয়েছে
বিএফইউজের নির্বাহী পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রামনাবাদ নদীর ভাঙ্গণের কবলে
পড়েছে প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের কবর ও সংশ্লিষ্ট জনপদ। এই জনপদকে রক্ষা করতে
বেড়ীবাধ নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গত বুধবার (২৫আগস্ট) বিএফইউজের নির্বাহী
পরিষদের সভায় এ দাবি জানানো হয়। এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৬আগস্ট) সরেজমিন পরিদর্শন
করেন পটুয়াখালী ডিভিশন পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী হালিম সালেহী,
গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. শাহিন শাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিষ
কুমার ও ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরাফাত হোসেন রাকিব মোল্লাসহ
প্রমূখ।
গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. শাহিন শাহ বলেন, ইতি পূর্বে একাধিক বার নদী
গর্ভে এলাকা বাসির ঘরবাড়ি চলে গেছে। আর একবার ভাঙ্গলে এলাকাবাসীর মাথা
গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে ডাকুয়া
ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, আটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ
আটখালী বাজারের শত শত দোকান ঘর, বসতঘর ও ফসলি জমি। বিশেষ করে প্রয়াত সাংবাদিক
আলতাফ মাহমুদের কবর রক্ষা করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহাজাদা (এমপি) মাধ্যমে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোড় দাবি জানাচ্ছি।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিষ কুমার বলেন, ডাকুয়া ইউনিয়নের কিছু
এলাকা ভাঙ্গণ প্রবণ অঞ্চল। প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের কবর এর আগেও বিভিন্ন সময়
পরিদর্শন করেছি। নদী ভাঙ্গণ রোধ করে সরকার তার কবর রক্ষা করার প্রচেষ্টা করতেছে।
পটুয়াখালী ডিভিশন পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী হালিম সালেহী বলেন, প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের কবরসহ রামনাবাদ নদীর ভাঙ্গণ এলাকা পরিদর্শন করেছি,
স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে ডিপিপি প্রণয়নের মাধ্যমে দ্রুত কাজ
করার চেষ্টা করছি।
Leave a Reply