
মোঃ আতাউর রহমান মুকুল, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক নিজস্ব অর্থায়নে সর্বসাধারণের সেবায় একটি ‘মানবিক সহায়তা অ্যাম্বুলেন্স’ চালু করেছেন। রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১০টায় সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদ্বোধন করা হয়।
৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান, সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, “অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সেবা করা একটি মহৎ গুণ, যা মহান আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন। যে কাজগুলো আল্লাহ পছন্দ করেন, সেগুলো আমাদের বেশি বেশি করা উচিত। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি চেয়ারম্যান জহুরুল হকের মতো মানবিক উদ্যোগ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর ও কল্যাণমুখী হবে। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহস জোগানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, “আমার একটাই লক্ষ্য—অসহায় মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা। দীর্ঘদিন ধরেই আমার স্বপ্ন ছিল সর্বানন্দ ইউনিয়নের মানুষের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ব্যবস্থা করা। অনেক রোগী অর্থাভাবে বা সময়মতো যানবাহনের অভাবে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে অনেক সময় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। এই মানবিক সহায়তা অ্যাম্বুলেন্স মূলত সেই অসহায় মানুষদের জন্য, যাতে তারা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “মহান আল্লাহ যদি তৌফিক দান করেন, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়নের জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স চালুর চেষ্টা করব।”
উদ্বোধন শেষে অ্যাম্বুলেন্সটি জনসাধারণের জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ, সুধীসমাজ এবং সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, ইউনিয়নের মানুষের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে এই অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।