
বিশেষ প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাবেক মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচিত শামসুল কবির খানের বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব বিস্তার, অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক সময়ে কথিত নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের অভিযোগ, শামসুল কবির খানের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় পরিচয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভূমিকার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থায়ন করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে শামসুল করিব খানের বিরুদ্ধে
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কথিত সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের অর্থায়ন করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে শামসুল কবির খান জড়িত ঢাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিযোগকারীরা
অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেয় নাই তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন আনশৃঙ্খলা বাহিনী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শামসুল কবির খান দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ২০২২ সালে নেত্রকোণার কেন্দুয়া এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফাঁসির দাবিতে আয়োজিত একটি মিছিলে তিনি অংশ নিয়েছিলেন অথবা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের ‘লগি-বৈঠা’ কর্মসূচির সময় কেন্দুয়া উপজেলায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটানো এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ১৫ আগস্ট দলীয় কর্মসূচি উপলক্ষে অর্থ ব্যয় করে গণভোজের আয়োজনের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সময়ের নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭ সালে শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি জিয়ারত করতে যাওয়া একটি সফরে শামসুল কবির খান অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি
এ ছাড়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
একই সঙ্গে ২০১৮ সালে কেন্দুয়া উপজেলায় ‘শেখ মুজিবুর রহমানের ফটো গ্যালারি’ স্থাপনের পেছনে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
এসব পদ-পদবি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যতা সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক নথি, দলীয় তালিকা এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারী সায়মুন কবির খানের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষমতা ব্যবহার করে কেউ আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জবাবদিহির বাইরে না থাকেন, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা ও সচেতন মহল
এ বিষয়ে শামসুল কবির খানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রথম পর্ব: অনুসন্ধান অব্যাহত
শামসুল কবির খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী পর্বে নতুন কোনো তথ্য প্রমাণসহ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে