
হাসান তারেক, সিনিয়র রিপোর্টার:
চট্রগ্ৰামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পদুয়া এলাকায় হাঙ্গরখাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবীতে সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী । আজ দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত স্থানীয়রা ঠাকুরদিঘী টু জঙ্গল পদুয়া সড়ক অবরোধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে ৩ ঘন্টা ধরে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে সড়কটি ব্যবহারকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। পরে লোহাগাড়া থানা পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের শান্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে যাচ্ছে । এর ফলে ভারী ড্রাম্প ট্রাক (ডাম্পার) চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় জনগণের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অবরোধকারী আকতার হোসেন বলেন, দিন-রাত অবৈধ বালুর ড্যাম্পার চলাচলের কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ধুলাবালির কারণে আমাদের ছেলেমেয়েদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-মাদরাসায় যেতে হয়। এছাড়া অধিক পরিমাণে বালুভর্তি গাড়ি চলাচলের কারণে জঙ্গল পদুয়ার ব্রীজটিও ধ্বসে পড়ছে। অতিদ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে এই ব্রিজটি যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। তিনি আরো বলেন বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি৷ তাই বাধ্য হয়েই সাধারণ জনগণকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন উত্তর পদুয়া বালুমহল -১ নামে মেসার্স জিয়া এন্টারপ্রাইজকে গত এপ্রিল মাসে হাঙ্গরখালের একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে বালু উত্তোলনের কার্যাদেশ দেয়। কিন্তু ইজারাদারেরা কার্যাদেশের নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়িয়ে বিভিন্ন স্পট থেকে বালু উত্তোলন করতে থাকে। তাই বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ শুরু করে। মেসার্স জিয়া এন্টারপ্রাইজ স্থানীয় প্রতিনিধি সরওয়ার কামাল জানান,আমরা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে বালু উত্তোলনের প্রস্তুুতি নিচ্ছি। এই বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয়দের কোন ধরণের ক্ষতি হবে না বলেও জানান তিনি। লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ বলেন সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায় এবং অবরোধকারীদের বুঝিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।