
ইব্রাহিম খলিল,পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের কৃষক পাঞ্জা আলী এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে যশোরের অটো শিম চাষ করে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন। কৃষিকাজের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং অধিক লাভের আশায় তিনি এ মৌসুমে শিমের আবাদ করেছেন। বর্তমানে ক্ষেতের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার ও গাছের পেঁচানো আগা ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) সরেজমিনে পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে শিমগাছ সারিবদ্ধভাবে বেড়ে উঠেছে। বর্তমানে ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার, গাছের পেঁচানো আগা ছাড়ানো এবং নিয়মিত পরিচর্যার কাজ চলছে।
গাছগুলোতে ইতোমধ্যে ফুল আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্ষেতে শ্রমিকদের নিয়ে পরিচর্যার কাজ করছেন কৃষক পাঞ্জা আলী। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
কৃষক পাঞ্জা আলী জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতেই তিনি যশোরের অটো শিমের উন্নতমানের বীজ সংগ্রহ করে জমিতে বপন করেন। শুরু থেকেই তিনি পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করে আসছেন। জমি প্রস্তুত, বীজ সংগ্রহ, শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক ও সেচ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে শিম সংগ্রহ পর্যন্ত আরও কিছু অর্থ ব্যয় হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, “শিম চাষে শুরুতে খরচ কিছুটা বেশি হয়। তবে ফলন ভালো হলে লাভও ভালো পাওয়া যায়। আমি নিয়মিত ক্ষেতের পরিচর্যা করছি। আল্লাহর রহমতে গাছের অবস্থা ভালো আছে। আশা করছি আর এক মাসের মধ্যেই ক্ষেত থেকে শিম সংগ্রহ শুরু করতে পারবো।”
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যশোরের অটো শিম জাতটি তুলনামূলকভাবে ফলনশীল এবং বাজারে এর চাহিদাও ভালো। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এই জাতের শিম চাষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাঞ্জা আলীর শিমক্ষেত ইতোমধ্যে এলাকার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও শ্রমের কারণে গাছগুলো সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। অনেক কৃষকই তার ক্ষেত পরিদর্শন করে শিম চাষের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
কৃষক পাঞ্জা আলী আরও বলেন, “কৃষিই আমার জীবিকার প্রধান অবলম্বন। প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করি। এ বছর শিম চাষে ভালো ফলনের আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে। সেই আশাতেই দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।”
এদিকে, ক্ষেতে পরিচর্যার কাজ অব্যাহত রয়েছে। কৃষকের প্রত্যাশা, আগামী এক মাসের মধ্যে শিম সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ও বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে এ চাষ তার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।