
অতুল সরকার, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বৈদ্ধিপাড়ায় পুকুর পাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ
নিহতরা হলেন উপজেলার দৌলতদিয়া পরশউল্লাহ পাড়া এলাকার আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার। ৪ মে চর দৌলতদিয়া হাট এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তারা। এর পর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বামী আমজাদ শেখ।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরের দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা, উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বৈদ্ধিপাড়ার কালিতলা গ্রামে স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুর পাড় থেকে দুর্গন্ধ আসায়, মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক এগিয়ে যান। তারা পুকুরপাড়ের মাটিতে পুঁতে রাখা মানুষের একটি বের হয়ে আছে দেখতে পান। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশকে জানালে পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) রাশিদুল ইসলাম পুলিশের একটি দল নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছে মাটি খুঁড়ে প্রথমে মেয়ে এবং পরে মায়ের লাশ উদ্ধার করেন।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খবির হোসেন বলেন, পুকুরটি আনছারডাঙ্গী গ্রামের জনৈক হাকিম উল্লাহর। পুকুরের পাশে মাঠে কাজ করার সময় দুর্গন্ধ পেয়ে উৎস খুঁজতে গিয়ে কৃষকেরা লাশ দেখতে পান। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশকে খবর দিলে তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে প্রথমে শিশুটির ও পরে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে এসেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, সীমানাটি ফরিদপুরের মধ্যে পড়েছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু দিন আগে নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ থানায় এসে স্ত্রীর নামে মৌখিক অভিযোগ করেন। তার স্ত্রী এক লাখ টাকা নিয়ে পরকিয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছে। এদিকে নিহত জাহানারা’র পিতা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,
জামাই তার মেয়ে এবং নাতিকে হত্যা করে অন্যত্র লুকিয়ে রেখেছে। ওসি জানান পরকীয়া’র বিষয় সহ সম্ভাব্য সকল বিষয় তদন্ত চলছে।