
জাহাঙ্গীর আলম রাজা,স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির কৃষি ভর্তুকির দ্বিতীয় ধাপের অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে যশোরের ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সাধারণ কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সকালে কৃষি ভর্তুকির কার্ডধারী কৃষকদের সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হয়। সেই অনুযায়ী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের শত শত কৃষক সকাল থেকেই পরিষদ চত্বরে অপেক্ষা করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চেয়ারম্যান উপস্থিত হননি। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুপুর প্রায় ২টার দিকে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে এসে মাত্র এক-দুটি ওয়ার্ডের কিছু মানুষের অনুদান বিতরণ করেন। পরে কোনো ঘোষণা বা পূর্বাভাস ছাড়াই পরিষদ ত্যাগ করেন। এতে অন্যান্য ওয়ার্ডের কৃষকরা অনুদান না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। উপস্থিতদের দাবি, এ সময় কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, প্রথম ধাপের কৃষি সহায়তা বিতরণেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, তালিকার অন্তত ১৮ জন উপকারভোগী তিন হাজার টাকা পেলেও প্রতিশ্রুত ১৫ কেজি চাল পাননি। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি নাকি বলেছিলেন, “চাল পরে দেওয়া হবে।” কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই চাল তারা পাননি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ফতেপুর ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নয় এবং বিভিন্ন সরকারি ও দলীয় সহায়তা বিতরণেও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তারা কৃষি ভর্তুকি ও অন্যান্য অনুদান বিতরণে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কৃষক হয়রানির শিকার না হন।