
রিনা আক্তার আখি স্টাফ রিপোর্টার দিনাজপুরের বিরামপুরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। “শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও মতবিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ গ্র্যাজুয়েট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল সাংবাদিক ঐক্যফোরামের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে শহরের ঢাকা মোড় এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সাংবাদিকরা অংশ নেন, যা পুরো শহরে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। পরে শহরের চাংপাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গ্র্যাজুয়েট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোরশেদ মানিক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বিরামপুর প্রেসক্লাব (কলেজ বাজার) এর সভাপতি মাহমুদুল হক মানিক, বিরামপুর প্রেসক্লাব (কলাবাগান) এর সভাপতি শাহ আলম মন্ডল, হাকিমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, ফুলবাড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দেশ টিভির প্রতিনিধি হারুনুর রশিদ, ঢাকামোড় ডটকম-এর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বিরামপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম মিঞা, আমার দেশ পত্রিকার বিরামপুর প্রতিনিধি এনামুল হক, ঢাকা টাইমস-এর বিরামপুর প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদ অন্তরসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ফুলবাড়ি উপজেলার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধ করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত সাগর-রুনি হত্যা মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানান তারা। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যমান কিছু আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক। এসব আইন যুগোপযোগী সংশোধনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। অনুষ্ঠানের শেষাংশে বক্তারা সকল গণমাধ্যমকর্মীর ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।