
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ শাকিল খান রাজু:
ভোলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর ৬ নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী ইছন আলী মাঝি জামে মসজিদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে মসজিদের ভেতরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গিয়ে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করে মসজিদ ত্যাগ করেন। পরে মুয়াজ্জিন মসজিদটি তালাবদ্ধ করে নিজ কর্মস্থলে চলে যান। সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে বাজারে যাওয়ার পথে এক মুসল্লি মসজিদের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখে স্থানীয়রা মসজিদের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং আগুন জ্বলতে দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে মনপুরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে স্টেশন অফিসার রবিউল আলমের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে মসজিদের ভেতরে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ২৫টি সিলিং ফ্যান ১টি আইপিএস ও ১টি ব্যাটারি ১টি মাইক সেট ও মাইক্রোফোন মিম্বারের খুতবা পাঠের চেয়ার
মসজিদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও ডেকোরেশন
মসজিদ কমিটির দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা
মনপুরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস সবসময় জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। যেকোনো দুর্যোগ বা বিপদে আমরা মানুষের পাশে আছি এবং থাকব। সরকারি সহায়তার আশ্বাস অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আশরাফ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদটি পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়ে সরকারি তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আল্লাহর ঘর সংস্কারের জন্য মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লিরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুনঃস্থাপন করা না হলে মসজিদে নিয়মিত ইবাদত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।