
মো:মিল্টন আলী,স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ ও সিরাপ জব্দ করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। পৃথক মাদকবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে পরিচালিত এ অভিযানে ৪৯ বোতল ভারতীয় মদ ও ২৪ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কোনো চোরাকারবারিকে পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোর আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ রাজাপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালাচ্ছিল বিজিবির সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় রাজাপুর বিওপির সীমান্ত পিলার ৭২/৩-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানিকপুর গ্রামের সুমনের পেয়ারা বাগানের পাশে সন্দেহজনকভাবে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নায়েব সুবেদার মোঃ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বাগানের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা মালামালের ওপর বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হলে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে ৪৯ বোতল ভারতীয় মদ এবং ২৪ বোতল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তবে এসব মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা আগেই পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে আসছে। চোরাচালানকারীরা কখনো রাতের আঁধারে, আবার কখনো ভোরের দিকে দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে। তবে সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুরে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
এদিকে, সর্বশেষ রাজাপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চোরাচালানবিরোধী তৎপরতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ পণ্য পরিবহন বা মাদক পাচারের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উদ্ধার করা ৪৯ বোতল ভারতীয় মদ ও ২৪ বোতল সিরাপ জব্দ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। একই সঙ্গে এসব মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের বিষয়েও প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে।