
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা এক অসহায় বৃদ্ধকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় রূপনগর থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর পেয়ে রূপনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও অসুস্থ ওই বৃদ্ধকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা না করে প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়। তাদের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে নিকটস্থ ইসলামী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, জীবন-মৃত্যুর সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা একজন মানুষকে দ্রুত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার পরিবর্তে শুধুমাত্র জিডি করার পরামর্শ দেওয়া কতটা যথাযথ ছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নোমান হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কয়েকবার ফোন কেটে দেন। পরে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ওসি বলেন, “আপনার চেয়ে বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। বারবার ফোন দিয়ে কেন বিরক্ত করছেন?”
রূপনগর থানার অপারেশন কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের কাজ পুলিশের নয়; এটি সিটি করপোরেশন ও আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাজ।”
তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, কোনো অসুস্থ বা মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে জরুরি চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা কি মানবিক ও সাংবিধানিক দায়িত্বের বাইরে?
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ঘটনার সময়কার কল রেকর্ড এবং বৃদ্ধের জীবিত ও মৃত্যুর পরের ভিডিওচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।