মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন বরিশালের বীরাঙ্গনা হাজেরা বেগম। রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সম্মানী ভাতার ৮২ হাজার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার। বরিশাল মহানগরে হাজেরা বেগমই একমাত্র নারী যিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
স্বীকৃতি পেয়ে আবেগাপ্লুত হাজেরা বেগম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাগো বীরাঙ্গনা কইতো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমারে হেই সম্মান দেছে, আমি খুব খুশি। শেষ বয়সে ভাতার টাহা দিয়া ভালোমতো বাঁচতে পারমু।’ হাজেরা বেগম ১৮ বছর বয়সে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, হাজেরা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের দাসেরহাট গ্রামের দিনমজুর প্রয়াত কামিন উদ্দিন চৌকিদারের মেয়ে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। পথে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে ধরে নিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়।
একাত্তরের সেই ভয়াল স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজেরা বেগম। তিনি জানান, ২০১৬ সালে বরিশাল মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে তিনি স্বীকৃতি পেতে আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, হাজেরা বেগমের আবেদন যাছাই-বাচাই শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তাকে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বরাদ্দ দিয়ে তা ছাড় করা হয়েছে।
তিন ছেলে ও এক মেয়ের জননী হাজেরা বেগম বরিশাল নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জালাল হোসেনের স্ত্রী।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা কমান্ডের সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, হাজেরা বেগমকে স্বীকৃতি দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা খুশি হয়েছেন। তার (হাজেরা) ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অসামান্য ত্যাগ ও কীর্তিগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। হাজেরা বেগমের মতো মহীয়সী নারীদের পাশে রাষ্ট্র সবসময় থাকবে। জাতি তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবে।
Leave a Reply