শিরোনাম :
জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক পদে পদোন্নতি পেলেন মোজাম্মেল হোসেন বাবু ধামরাইয়ে বিজ্ঞান মেলা নীলফামারী সদরে বিসমিল্লাহ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে সাড়ে ৬২ লাখ টাকার কো*কেন ও হি*রোইন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৬ বিজিবি) নীলফামারী। রাজশাহীতে হাসিনাসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা কোটচাঁদপুরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায় জনগণের রোষানলে সাব রেজিস্ট্রার ঝিনাইদহে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট দিতে গিয়ে ভোটারের মৃত্যু Daily Detectivenews কেরানিগজ্ঞের বিপুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গোদাগাড়ীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার মিরপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ শাহজাদপুরে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের কাছে ছাত্রলীগ নেতার চাঁদা দাবির অভিযোগ

রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা কার্যকর হবে দুই আসামীর ফাঁসি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩
  • ২৬৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলার দুই আসামি ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদণ্ড আজ রাতে কার্যকর হতে পারে। এ জন্য রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রস্তুত করা হয়েছে ফাঁসির মঞ্চ। ফাঁসি কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ৮ জন জল্লাদকে। এ জন্য রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান গেটে। সেই সাথে অতিরিক্ত করা নিরাপত্তা সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এসময় সাধারণ মানুষরাও কারাগারের গেটে ভীড় জমাতে শুরু করেছে। কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানায়নি।

তারা বলছে জেল কোড অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে কোন তথ্য জানানোর নিয়ম নেই। কারাগারের একটি সূত্রমতে, কারা কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর এক সপ্তাহ আগে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করে। কারাগারের পুর্ব দিকের দেওয়ালের পাশে এ মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও যে দঁড়িতে ঝুলানো হবে তাতে আসামীদের তিনগুন ওজনের বস্তু বেঁধে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ফাঁসির দঁড়িটিও প্রস্তুত করা হয়েছে। সূত্রমতে, ফাঁসি কার্যকর করতে আটজনের একটি জল্লাদ টিম গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। এর পর তাদের প্রশিক্ষণ ও ফাঁসি কার্যকরের একাধিক মহড়া দেওয়ানো হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আটজনের মধ্যে টিম প্রধান হেন্ডেল টেনে ফাঁসি কার্যকর করবেন। এ সময় তার সঙ্গে একজন সহযোগি থাকবেন। বাকি ছয়জনের মধ্যে চারজন দুই আসামীকে ধরে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবেন। আর দুইজন তাদের কালো কাপড়ের জম টিপু ও গলায় দঁড়ি পরিয়ে দিবেন।

সূত্রমতে, এক মঞ্চে এক সঙ্গে একই সময় দুই আসামীর ফাঁসি কার্যকর হবে। মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাম পাশে থাকবে জাহাঙ্গীর আলম। ১০টা ১ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট তাদের দঁড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হবে। এর পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের হাত-পা ও ঘাড়ের রগ কাটা হতে পারে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। জাহাঙ্গীরের লাশ পাঠানো হবে নগরীর মতিহার থানার খোঁজাপুরে। আর মহিউদ্দিনের লাশ পাঠানো হবে ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। কারাগার সূত্রমতে, রাত ৯টার দিকে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি দুই আসামীকে জানানো হবে। এর পর তাদের গোসল করিয়ে খাবারের বিষয়ে শেষ ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাওয়া হবে। পরে কারা মসজিদের ইমাম তাদের তৌবা পড়াবেন। এর পর ১০টার আগেই তাদের ফাঁসির মঞ্চের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। ফাঁসি কার্যকরের সময় কারাগারের ডিআইজি প্রিজন, সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার ছাড়াও জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। কারাগারে প্রস্তুত রাখা হবে লাশ বহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়াও নিরাপত্তা জোরদার কারা হবে কারাগারের আশাপাশের। গত ২৫ জুলাই দুই আসামির পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাত করেছেন। জাহাঙ্গীরের পরিবারের ৩৫ সদস্য তার সঙ্গে দেখা করেন।

আর মহিউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে তার পরিবারের তিন সদস্য। এর পর তাদের পরিবারের আর কেউ দেখা করতে পারেনি। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ। একদিন পর ৩ ফেব্রুয়ারি বাসাটির পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক এস তাহের আহমেদের গলিত মরদেহ। ওইদিন রাতে তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ অধ্যাপক তাহেরের সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক চারজনকে ফাঁসির আদেশ ও দুজনকে খালাস দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ড. তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম, তার ভাই নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সালাম। তবে বিচারে খালাস পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও জাহাঙ্গীরের বাবা আজিমুদ্দিন মুন্সি। পরবর্তীতে সাজাপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

আপিল বিভাগ মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের রায় বহাল রাখলেও নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সালামের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন। সর্বশেষ মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে। কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন তারা। সে আবেদনও নাকচ করেন রাষ্ট্রপতি। গত ৫ জুলাই সেই চিঠি রাজশাহী কারাগারে পৌঁছায়। এর পর থেকে তাদের ফাঁসি কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com