
নিজস্ব প্রতিবেদক:- কাজ দেওয়ার জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠার পর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে অপসারণের জন্য তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সচেতন রাজশাহীবাসী।
গত ০৪ মার্চ, ২০২৬ইং বুধবার সকালে নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধনের মাধ্যমে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
একই দিনে ভিসি সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রামেবির স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সম্প্রতি ছয়টি প্যাকেজে ৭৭৭ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক। তবে এসব কাজ দেওয়ার সময় ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ কমিশন দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
জেনিট কর্পোরেশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী আতাউর রহমান টিপু দাবি করেছেন, দরপত্রের মাধ্যমে ভিসি তাকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং বিনিময়ে ৯ শতাংশ কমিশন চেয়েছিলেন। এই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে রাজশাহীতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভিসির অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছেন।
মানববন্ধনে ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’-এর ব্যানারে বেলা সাড়ে ১১টায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সেখানে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে ভিসি জাওয়াদুল হককে অপসারণ করতে হবে। তা না হলে ভিসির দপ্তর ঘেরাও করা হবে।
সাইদুর রহমান বলেন, “ভিসির আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা। দায়িত্ব নিয়েই ক্যাম্পাসের কয়েক হাজার গাছের আম লুট করা হয়েছে। টেন্ডার ছাড়াই গাছ কাটা হয়েছে এবং পরে শত কোটি টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে একটি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন আবার ৭৭৭ কোটি টাকার কাজের জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ কমিশন চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই দুর্নীতিগ্রস্ত ভিসিকে তিন দিনের মধ্যে অপসারণ করা না হলে আমরা তার দপ্তর ঘেরাও করব।”
কর্মসূচিতে ক্যাব রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, “এই ভিসি আওয়ামী লীগের আমলে কলেজ পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদে ছিলেন। সেই সময়ই দুর্নীতি করে টাকা অর্জন করেছেন। সেই টাকায় তিনি ভিসি হয়েছেন। এখন ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে টাকা তুলছেন। সম্প্রতি একজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন, যার সনদও নেই। ভিসিকে অপসারণ না করলে তাকে চেয়ার থেকে নামাতে বাধ্য হবেন।”
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ-দৌলা, সামাজিক সংগঠক সালাহউদ্দিন মিন্টু ও ব্যবসায়ী নেতা শফিকুর রহমান প্রমুখ। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অপর দিকে, নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ভিসি জাওয়াদুল হক ওই দিন সকালেই সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, “যে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তারা এখনও পর্যন্ত রামেবির কোনো কাজ করেনি। তাই তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ হাস্যকর। আমি সবকিছু নিয়ম মেনেই করেছি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি কোনো অনিয়ম করিনি।”
Leave a Reply