গত মঙ্গলবার রাতে এক দফা মার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রাজিয়া। কিন্তু ভোরবেলায় ঘুমের মধ্যে স্বামীর একের পর এক ইটের আঘাতে শেষ পর্যন্ত মরেই গেছেন তিনি। স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী আরিফ মুন্সী। গতকাল ভোর ৪টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বাঘিয়া গ্রামে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এ ঘটনায় আরিফকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
রাজিয়ার স্বজনেরা জানান, ২০০১ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার চান মিয়া মুন্সীর ছেলে আরিফ মুন্সির (৪৫) সঙ্গে বিয়ে হয় শরীয়তপুর পৌর শহরের আবুল কালাম ছৈয়ালের মেয়ে রাজিয়া সুলতানার (৩৬)। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিসহ নানা কারণে রাজিয়াকে নির্যাতন করতেন মাদকাসক্ত আরিফ। পারিবারিকভাবে একাধিকবার মীমাংসা করা হলেও নির্যাতন চলতেই থাকে।
মঙ্গলবার রাতেও যৌতুকের দাবিতে স্বামীর মারধরের শিকার হন রাজিয়া। পরে ভোর ৪টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন আরিফ। পরে সকালে পালং মডেল থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
বুধবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ইটের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই রাজিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকেরা।
রাজিয়ার মামা ইয়াদ আলী বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমার ভাগনিকে নির্যাতন করত আরিফ। বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার সালিস বৈঠক করেছি। তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছি।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, রাজিয়ার ভাই রাসেল ছৈয়াল বাদী হয়ে অভিযুক্ত আরিফকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় আরিফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply