মহামারী করোনাভাইরাস প্রভাবে গোটা বিশ্ব ভয় ভয়ে দিন পার করছে, তার ভিতরে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে কুয়াকাটাকে ভাসিয়ে নিচ্ছে ভয়ানক সাগর ৷ বিশ্বনন্দিত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে ক্রমশ গ্রাস করছে ক্ষুধার্ত সাগর। ছোট হয়ে আসছে কুয়াকাটার মানচিত্র।প্রতি বছরের ন্যায় অমাবস্যা, ও পূর্ণিমার, জোঁসনাতে, সাগরে সৃষ্টি হয় প্রচন্ড ঢেউ। শোঁ শোঁ শব্দে ভয়ানক ঢেউগুলোর ঝাঁপটাতে, বালুক্ষয় করে সৈকতের পরিধি ছোট করে ফেলছে।
ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে, শুটকি মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, কুয়াকাটার পুরানো ঐতিহ্য সানরাইজ মার্কেট, এবং একটি আবাসিক হোটেল। ঝুঁকিতে আছে সৈকতের ট্যুরিজম পার্ক, টুরিস্ট পুলিশ বক্স, বেরীঁবাধ মাত্র তিনের একাংশ বাকি আছে বিলীন হতে এছাড়াও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সৈকতের পাশে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এ নিয়ে পর্যটন এলাকায় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিদিন আতংকে আছেন বিনিয়োগকারীগন। কুয়াকাটার চৌমাথা থেকে মাত্র ২ শ ফুট বাকি আছে বিলিন হতে সৈকত। এ ভাঙ্গনের কবলে পরে পর্যটকদের গুরুত্ব পূর্ণ ৫ টি দর্শনীয় স্থান, বিলীন হয়ে যাচ্ছে যার মধ্যে সৈকত সুরক্ষিত নারিকেল বাগানের ঐতিহ্য, ও জাতীয় উদ্যান অন্যতম।
৪বছর ব্যবধানে ৩ কিলো জায়গা চলে গেছে সাগরের ভিতরে। সরেজমিনে সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যে, প্রতিবছর মে থেকে ৫ মাস পূর্ণিমা,- আমাবস্যা, জোঁ’তে, সাগর ভয়ানকভাবে ফুঁসে ওঠে। এক একটা বিশাল ঢেউ এসে সজোরে আঘাত হানে সমুদ্র পাড়ে। উপকূলীয় অঞ্চল, বালুরএলাকা হওয়ায় ঢেউয়ে ঝাপঁটায় বালু সরিয়ে পশ্চিম দিকে মোহনায় নিয়ে যায়। এতে সমুদ্রের পাড়ের বিশাল অংশ ফাটল ধরে বিলীন হয়ে যায় সাগর।
গত দুই মাসে প্রায় ৪০ ফুট পাড় ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে সাগর গর্ভে। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক জিউটিউব দিয়ে, সৈকত রক্ষা করার চেষ্টা করলেও, কিন্তু জিউটিউব এ দেখা যায় অনিয়ম, ৩কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় জিউটিউব কুয়াকাটার ভাঙ্গন রক্ষায় কোন উপকারে আসেনি, জিউটিউব দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই বিলীন হয়ে যায়।
পরিদর্শনকালে সাক্ষাৎ হয় স্থানীয় বাসিন্দা শহিদ তালুকদারের সাথে কথা হলে, সজল চোখে বলেন, সেই ৩৫থেকে৪০ বছর আগে ৪থেকে৫ মাইল দুরে শুটকির ব্যাবসা করতাম সাগর পারে। আর আজ বেরি বাধেঁ সাথে ঢেউয়ের পানি বলতে গেলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তাই আমাদের দাবি অতি দ্রুত সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাকে রক্ষা করার জন্য সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এবং একটি শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হক।
এ বিষয়ে ফোনের মাধ্যমে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সমুদ্র ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেয়ার সক্ষমতা কুয়াকাটা পৌরসভার নেই। দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, যা পাউবো কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিতে পারে। পৌরসভার পক্ষ থেকে জিরো পয়েন্টে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে, যা দিয়ে সৈকত রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তিনি এই সৈকত রক্ষা করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়ার আবেদন জানায় পৌর মেয়র, সাথে সাথে ,স্থানীয়দের দাবি অতি দ্রুত সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাক।
Leave a Reply