
ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চীফ :
সিলেটের বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিন আসামি অর্জুন লস্কর, তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, মামলার বাকি চার আসামি রবিউল ইসলাম, আইনুদ্দিন, রাজন ও মাহফুজ রহমান মাসুম-কে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে সকাল ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে এবং মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে বাদীপক্ষের আবেদনের পর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
বিচার চলাকালে মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দেশের অন্যতম আলোচিত এ মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। রায় ঘোষণার পর সিলেটসহ সারাদেশে মামলাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।