
সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম, ঢাকা:
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর ইকুরিয়া কার্যালয়ের লাইসেন্স শাখাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, হয়রানি ও দালাল চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট শাখার মোটরযান পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) নজরুল ইসলাম। তবে তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
সেবা নিতে আসা একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, লাইসেন্স প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে দীর্ঘসূত্রতা ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতার কারণে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় বারবার ফাইল ফেরত দেওয়া হয়। এতে বাধ্য হয়ে দালালদের সহায়তা নিতে হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।
একজন সেবাগ্রহীতা বলেন,
“নিয়ম মেনে আবেদন করেও বারবার ঘুরতে হচ্ছে। ফাইলে অজুহাত দেখিয়ে কাজ আটকে রাখা হয়।”
আরেকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ,
“দালাল ছাড়া কাজ করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অফিসে না আসলে ফাইল নড়ে না।”
দালাল চক্র নিয়ে অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে যারা অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়ার সুযোগ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, পরীক্ষার ফলাফল ও প্রক্রিয়াগত ধাপে প্রভাব খাটানোর বিষয়ও দেখা যায়। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সরকারি সেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে জনভোগান্তি বাড়ে।
একজন পরিবহন বিশ্লেষক বলেন,
“লাইসেন্সিং সিস্টেমে ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি না থাকলে অনিয়মের অভিযোগ বারবার উঠতে পারে।”
অভিযুক্তের বিষয়ে অবস্থান
অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে এবং সেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
Reporter Name 


















