ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে নেতা কর্মী আটক করতে ব্যর্থ পুলিশ, টার্গেট মেলাতে পথচারী ধরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ৪১ Time View
Print

মানজারুল ইসলাম মিলন, ক্রাইম রিপোর্টার-শরীয়তপুর:

শরীয়তপুরে জাজিরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের হয়ে মহাসড়কে মিছিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে টের পেয়ে পালিয়ে যায় মিছিলের প্রস্তুতি নেয়া ব্যক্তিরা। তবে পরে পথচারীদের যাতায়তরত অবস্থায় থামিয়ে আটক করার অভিযোগ উঠেছে জাজিরা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার(২২ মে) দুপুরের দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা ডিগ্রি কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে জাজিরা থানা পুলিশ গোপনে সংবাদ পায় ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা কলেজ এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই খবর পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালালে মিছিলের প্রস্তুতি নেয়া ব্যক্তিরা ছুটোছুটি করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদের আটক করতে না পেরে সেখান দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকজন পথচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবী, মিছিলে অংশগ্রহণ করতে আসা কাউকে না পেয়ে পুলিশ নিরীহ পথচারী বা সেখান দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজনকে আটক করে। আটক হওয়া অধিকাংশই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবী করছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার।

এদিকে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং পরে আরও ২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরসহ ১৬ জনের নামে জাজিরা থানার উপসহকারী পরিদর্শক(এএসআই) হিমায়েত হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ৮ জনকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নড়িয়া উপজেলার ডগ্রী মোচেন ঢালী কান্দি এলাকার বাসিন্দা আর্শেদ আলী সরদারের ছেলে মোঃ আতাহার সরদার(২৬), জাজিরার মোল্লা কান্দির এলাকার বাসিন্দা চুন্নু মাদবরের ছেলে তুলন মাদবর(১৯), নড়িয়া উপজেলার ডগ্রী মোচেন ঢালী কান্দি এলাকার বাসিন্দা
আমির হোসেনের ছেলে মোঃ নাহিদ হাসান সরদার(২২), জাজিরা দক্ষিণ ডুবলদিয়া এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল শিকারীর ছেলে শাকিল
শিকারী, জাজিরার বালিয়া কান্দি এলাকার বাসিন্দা দানেশ শেখের ছেলে জয় শেখ(২৬), শরীয়তপুর সদরের গ্রাম চিকন্দী এলাকার বাসিন্দা খোকন খানের ছেলে লিয়াকত খান(২১), জাজিরার গজনাইপুর এলাকার বাসিন্দা টিটন মোল্লার ছেলে রিফাত মোল্লা(২০), নড়িয়ার নয়ন মাদবর কান্দি এলাকার বাসিন্দা মজিবর সরদারের ছেলে সাব্বির সরদার(২৪)।

গ্রেফতার হওয়া শাকিলের বাবা বিল্লাল শিকারী বলেন, ‘‘আমার ছেলে রুপবাবুরহাট স্বর্ণের দোকানে কাজ করে। দুপুরে দোকান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ওর চাচাত বোনকে দিতে কলেজের কাছে চাচার বাড়ীত যাওয়ার পর। সেখান থেকে ফেরার পথে শাকিলকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার ছেলে কখনোই কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা।

গ্রেফতার হওয়া আতাহার সরদারের বোন ফারজানা বলেন, ‘আমার ভাই আতাহার ও তার ২ বন্ধু সাব্বির সরদার ও নাহিদ সরদার দিনমজুরের কাজ করে। শুক্রবার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে জাজিরার সেনেরচরের এক আত্মীয়র বাড়ী থেকে মোবাইল নিয়ে বাড়ীতে ফেরার পথে জাজিরা বটতলা এলাকা থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।’

গ্রেফতারকৃত নাহিদ হাসানের বাবা আমির হোসেন সরদার বলেন, ‘আমরা নিরীহ মানুষ। আমার ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে দিনমজুরের কাজ করে। ওর বন্ধুদের নিয়ে জাজিরার সেনেরচর এলাকায় আমার শশুরবাড়ী থেকে বাড়ীতে আসার পথে বটতলা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ আমার ছেলে নাহিদ ও তার দুই বন্ধুকে ধরে নিয়ে যায়। পরে পুলিশের কাছে শুনি ওরা নাকি আ.লীগের মিছিল করতে গেছে তার জন্য গ্রেফতার করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কখনোই কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা। এটা সবাই জানে। পুলিশ মিথ্যা মামলায় আমার ছেলেকে মামলা দিল। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

এছাড়াও গ্রেফতার হওয়া অন্যান্যদের আত্মীয়-স্বজনরাও অভিযোগ করেন পুলিশ তাদের ছেলেদের সম্পূর্ণ বিনা দোষে এমন গুরুতর মামলার আসামী করেছে।

এবিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: সালেহ আহাম্মদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয় ও পরে আরও দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মিছিলের আয়োজক কিংবা অংশগ্রহণকারীদের গ্রেফতার করতে না পেরে পথচারীদের গ্রেফতারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে ও সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তদন্ত শেষে যদি নিরপরাধ হয় তবে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।’

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মিরপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে নেতা কর্মী আটক করতে ব্যর্থ পুলিশ, টার্গেট মেলাতে পথচারী ধরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা।

Update Time : ০৬:০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
Print

মানজারুল ইসলাম মিলন, ক্রাইম রিপোর্টার-শরীয়তপুর:

শরীয়তপুরে জাজিরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের হয়ে মহাসড়কে মিছিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে টের পেয়ে পালিয়ে যায় মিছিলের প্রস্তুতি নেয়া ব্যক্তিরা। তবে পরে পথচারীদের যাতায়তরত অবস্থায় থামিয়ে আটক করার অভিযোগ উঠেছে জাজিরা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার(২২ মে) দুপুরের দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা ডিগ্রি কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে জাজিরা থানা পুলিশ গোপনে সংবাদ পায় ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা কলেজ এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই খবর পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালালে মিছিলের প্রস্তুতি নেয়া ব্যক্তিরা ছুটোছুটি করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদের আটক করতে না পেরে সেখান দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকজন পথচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবী, মিছিলে অংশগ্রহণ করতে আসা কাউকে না পেয়ে পুলিশ নিরীহ পথচারী বা সেখান দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজনকে আটক করে। আটক হওয়া অধিকাংশই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবী করছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার।

এদিকে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং পরে আরও ২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরসহ ১৬ জনের নামে জাজিরা থানার উপসহকারী পরিদর্শক(এএসআই) হিমায়েত হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ৮ জনকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নড়িয়া উপজেলার ডগ্রী মোচেন ঢালী কান্দি এলাকার বাসিন্দা আর্শেদ আলী সরদারের ছেলে মোঃ আতাহার সরদার(২৬), জাজিরার মোল্লা কান্দির এলাকার বাসিন্দা চুন্নু মাদবরের ছেলে তুলন মাদবর(১৯), নড়িয়া উপজেলার ডগ্রী মোচেন ঢালী কান্দি এলাকার বাসিন্দা
আমির হোসেনের ছেলে মোঃ নাহিদ হাসান সরদার(২২), জাজিরা দক্ষিণ ডুবলদিয়া এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল শিকারীর ছেলে শাকিল
শিকারী, জাজিরার বালিয়া কান্দি এলাকার বাসিন্দা দানেশ শেখের ছেলে জয় শেখ(২৬), শরীয়তপুর সদরের গ্রাম চিকন্দী এলাকার বাসিন্দা খোকন খানের ছেলে লিয়াকত খান(২১), জাজিরার গজনাইপুর এলাকার বাসিন্দা টিটন মোল্লার ছেলে রিফাত মোল্লা(২০), নড়িয়ার নয়ন মাদবর কান্দি এলাকার বাসিন্দা মজিবর সরদারের ছেলে সাব্বির সরদার(২৪)।

গ্রেফতার হওয়া শাকিলের বাবা বিল্লাল শিকারী বলেন, ‘‘আমার ছেলে রুপবাবুরহাট স্বর্ণের দোকানে কাজ করে। দুপুরে দোকান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ওর চাচাত বোনকে দিতে কলেজের কাছে চাচার বাড়ীত যাওয়ার পর। সেখান থেকে ফেরার পথে শাকিলকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার ছেলে কখনোই কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা।

গ্রেফতার হওয়া আতাহার সরদারের বোন ফারজানা বলেন, ‘আমার ভাই আতাহার ও তার ২ বন্ধু সাব্বির সরদার ও নাহিদ সরদার দিনমজুরের কাজ করে। শুক্রবার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে জাজিরার সেনেরচরের এক আত্মীয়র বাড়ী থেকে মোবাইল নিয়ে বাড়ীতে ফেরার পথে জাজিরা বটতলা এলাকা থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।’

গ্রেফতারকৃত নাহিদ হাসানের বাবা আমির হোসেন সরদার বলেন, ‘আমরা নিরীহ মানুষ। আমার ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে দিনমজুরের কাজ করে। ওর বন্ধুদের নিয়ে জাজিরার সেনেরচর এলাকায় আমার শশুরবাড়ী থেকে বাড়ীতে আসার পথে বটতলা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ আমার ছেলে নাহিদ ও তার দুই বন্ধুকে ধরে নিয়ে যায়। পরে পুলিশের কাছে শুনি ওরা নাকি আ.লীগের মিছিল করতে গেছে তার জন্য গ্রেফতার করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কখনোই কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা। এটা সবাই জানে। পুলিশ মিথ্যা মামলায় আমার ছেলেকে মামলা দিল। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

এছাড়াও গ্রেফতার হওয়া অন্যান্যদের আত্মীয়-স্বজনরাও অভিযোগ করেন পুলিশ তাদের ছেলেদের সম্পূর্ণ বিনা দোষে এমন গুরুতর মামলার আসামী করেছে।

এবিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: সালেহ আহাম্মদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা হয় ও পরে আরও দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মিছিলের আয়োজক কিংবা অংশগ্রহণকারীদের গ্রেফতার করতে না পেরে পথচারীদের গ্রেফতারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে ও সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তদন্ত শেষে যদি নিরপরাধ হয় তবে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।’